বাংলা জনপ্রিয় সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত স্পাই চরিত্রগুলোর একটি মাসুদ রানা। ষাটের দশকে কিংবদন্তি লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন-এর হাত ধরে জন্ম নেওয়া এই চরিত্র শুধু বইয়ের পাতায় নয়, প্রজন্মের কল্পনাতেও তৈরি করেছে আলাদা এক জগৎ।
চার শতাধিক বই, অসংখ্য রহস্য-অভিযান, মৃত্যু আর দুঃসাহসিক মিশনের মধ্য দিয়ে ‘মাসুদ রানা’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের নিজস্ব এক স্পাই আইকন।
অবশেষে সেই কিংবদন্তি চরিত্র এবার আসছে বড় পর্দায়। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে বহুল আলোচিত সিনেমা মাসুদ রানা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা জটিলতা ও বারবার পিছিয়ে যাওয়ার পর মুক্তির মুখ দেখছে ছবিটি।
১৯৬৬ সালে প্রকাশিত ‘ধ্বংস পাহাড়’ বই দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল মাসুদ রানার। লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন মূলত জেমস বন্ড চরিত্রের আদলে একজন বাঙালি স্পাই তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘মাসুদ রানা’ নিজস্ব স্বকীয়তায় বাংলা সাহিত্যে আলাদা অবস্থান তৈরি করে নেয়। সাবেক মেজর, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এজেন্ট এবং সাংকেতিক নাম ‘এমআর নাইন’, এই পরিচয়েই পাঠকের কাছে রহস্যময় এক নায়ক হয়ে ওঠে রানা।
বইয়ের পাতার সেই দুর্ধর্ষ চরিত্রকে আসন্ন ঈদে পর্দায় জীবন্ত করতে চলেছেন রাসেল রানা। তিনি মূলত চ্যানেল আইয়ের রিয়েলিটি শো ‘কে হবেন মাসুদ রানা?’–এর বিজয়ী হিসেবে এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাকশন ট্রেনিং, ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি।
এরইমধ্যে ছবির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। প্রশংসাও করছেন অনেকে, বিশেষ করে মাসুদ রানা চরিত্রে রাসেল রানাকে নিয়ে কথা বলছেন অনেকে। ট্রেলার দেখে শাহীন নামের এক দর্শকের মন্তব্য,“ছেলেটা কমপ্লিটলি প্যাকেজ হিরো।” সাজ্জাদ লিখেছেন, ছেলেটা অসাধারণ সুন্দর এন্ড স্মার্ট কথাবার্তায়।” রাজু আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, “এই ছেলেকে নিয়মিত সিনেমায় চাই।”
ছবির প্রযোজক আবদুল আজিজ মনে করছেন, এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় চমক হতে যাচ্ছে ‘মাসুদ রানা’। তার ভাষায়, এত বড় ক্যানভাসের গল্প এককভাবে নির্মাণ করা কঠিন ছিল বলেই জাজ মাল্টিমিডিয়া-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
২০২১ সালে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও করোনা মহামারি, লকডাউন, প্রশাসনিক জটিলতা ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় শুটিংয়ের অনুমতি পেতে বিলম্ব হওয়ায় ছবিটির কাজ বারবার পিছিয়ে যায়। তবে নির্মাতাদের দাবি, সময় যত লেগেছে, কাজটিকে তত বেশি নিখুঁত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে ট্রেলার প্রকাশের পর সামাজিকমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। কিছু দর্শক ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও প্রযোজক স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাসুদ রানা চরিত্রে কোথাও এআই ব্যবহার করা হয়নি। বরং কিছু ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।
ছবিতে রাসেল রানার বিপরীতে ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘সোহানা’ চরিত্রটিও মাসুদ রানা সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর একটি।
একসময় বইয়ের দোকানে নতুন ‘মাসুদ রানা’ হাতে পাওয়ার জন্য তরুণদের যে উন্মাদনা ছিল, নির্মাতা-প্রযোজকরা বিশ্বাস করছেন বড় পর্দাতেও সেই নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনবে এই সিনেমা!




