ইসলামি জীবনদর্শন: চেষ্টা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা
ইসলামি মূল্যবোধেও মানুষকে তার নিজস্ব চেষ্টা ও কর্মের ওপর দায়বদ্ধ করা হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ–তাআলা ঘোষণা করেন, “মানুষ তা-ই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে। আর তার চেষ্টার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে।” (সুরা নাজম, আয়াত: ৩৯-৪০)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জিত কাজের জন্য দায়ী।” (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮)
এই আয়াতগুলোর মধ্য দিয়ে একটি গভীর পারিবারিক শিক্ষার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়—সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজের ভালো-মন্দের পরিণতি বহন করতে শেখানো প্রয়োজন। ভাষাবিদ রাগেব ইসফাহানি ‘চেষ্টা’ (সাঈ) এবং ‘অর্জন’ (কসব)-এর চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, মানুষের নিজস্ব অধ্যবসায় ও লাভ-ক্ষতির বিচার থেকেই তার জীবনের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে। (মুফরাদাতু আলফাজিল কোরআন, সম্পাদনা: সফওয়ান আদনান দাউদি, দামেস্ক: দারুল কলাম, ২০০৯, পৃষ্ঠা: ৪০৭)
‘খেজুর গাছে পরাগায়ন’-এর ঘটনায় মহানবী (সা.) সাহাবিদের একটি নির্দিষ্ট চাষপদ্ধতি সম্পর্কে মন্তব্য করার পর যখন দেখা গেল ফসল আশানুরূপ হয়নি, তখন তিনি সরল ভাষায় বললেন, “তোমাদের পার্থিব বিষয়ে তোমরাই সবচেয়ে ভালো জানো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৬৩)
এই হাদিস প্রমাণ করে যে ভুল ও চেষ্টার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রশংসনীয়।
অপর একটি হাদিসে মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “যা তোমার উপকারে আসে তার ওপর আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অলস হয়ে বসে থেকো না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৪)
এই শিক্ষা সন্তানদের মধ্যে উদ্যোগী মনোভাব ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার মানসিক শক্তি গড়ে তোলে।
ইসলামি শিক্ষাবিদ আব্দুর রহমান আল-নাহলাবি উল্লেখ করেছেন যে মূল্যবোধ ও শিক্ষা শুধু মুখস্থ কথা থেকে আসে না; বরং জীবনের বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে তা স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়। (উসুলুত তারবিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আসালিবুহা, দামেস্ক: দারুল ফিকর, ২০০৭, পৃষ্ঠা: ৯০-৯৩)