ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা: ১৭০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবি – DesheBideshe

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা: ১৭০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবি – DesheBideshe


ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা: ১৭০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবি – DesheBideshe

তেহরান, ৯ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ইরানের অন্তত ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির পর এটিই ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মাপের সংঘাত।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, এই তীব্র বোমাবর্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া।

বুধবার রাতে চালানো এই অভিযানে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর প্রতিবাদে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেন কেরমানপোর জানান, যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। এতে ১৪ জন শহীদ এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি সেতু এবং ইরান তেহরান রেল করিডর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বুশেহরে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবারের এই পাল্টাপাল্টি হামলা সেই প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, এটি জাহাজে ইরানি বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরানও। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলার সতর্কতায় একাধিকবার সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েত ও কাতারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানি বাহিনী। তবে জর্ডান জানিয়েছে তারা বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ওই দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এনএন/ ৯ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top