
ওয়াশিংটন, ১৩ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকরের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ১৩ এপ্রিল রাত আটটা থেকে এই মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালির পূর্বে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের অংশে সব ধরনের জাহাজের ওপর এই অবরোধ বলবৎ থাকবে।
নাবিকদের জন্য জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে অনুমতি ব্যতীত অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো দেশের জাহাজকে আটক বা জব্দ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের পরিচয় বিবেচনা করা হবে না এবং অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।
তবে সেন্টকম বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ব্যতীত অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াতকারী নিরপেক্ষ জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে না। যদিও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব জাহাজে তল্লাশি চালানো হতে পারে। এ ছাড়া খাদ্য চিকিৎসা সামগ্রী এবং জরুরি সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ চলাচলের বিশেষ অনুমতি পাবে তবে সেগুলোও কঠোর পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী সব জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং অন্যান্য দেশও এতে অংশ নেবে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে টোল প্রদানকারী যেকোনো জাহাজকে আটক করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন যারা অবৈধ টোল দেবে তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে না। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো শান্তিপূর্ণ জাহাজের ওপর হামলা চালায় তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পরবর্তীতে সেন্টকম পরিষ্কার করে যে এই অবরোধ মূলত ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে।
এনএন/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬






