
মস্কো, ১০ মে – মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং পারমাণবিক চুক্তির অচলাবস্থা নিরসনে এক বড় ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি সম্মত হয় তবে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে এবং রুশ ভূখণ্ডে তা নিরাপদ সংরক্ষণে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত।
শনিবার (৯ মে) মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এই প্রস্তাব দেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের শঙ্কা কমিয়ে কূটনীতির পথ সুগম করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন তার বক্তব্যে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির (JCPOA) কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “রাশিয়া এর আগেও ২০১৫ সালে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়ে এসেছিল। যদি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুনরায় প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে আমরা সেই দায়িত্ব নিতে দ্বিধাবোধ করব না।”
২০১৫ সালের সেই চুক্তিতে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
পুতিন সংবাদ সম্মেলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, চলমান সংকটের সব পক্ষই নীতিগতভাবে ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত ছিল। কিন্তু বাদ সাধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান। ওয়াশিংটন শর্ত জুড়ে দেয় যে, ইরান থেকে সরানো ইউরেনিয়াম কেবল তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) হেফাজতেই রাখতে হবে। তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে এবং আস্থার সংকটে ইরান এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করে। পুতিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই একগুঁয়েমিই সমঝোতার পথে মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মস্কো বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের সাথেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে পুতিন নিশ্চিত করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের আলোচনার দরজা খোলা। আশা করছি এই সংঘাত এবং অচলাবস্থা খুব দ্রুতই শেষ হবে।”
পুতিন এই মন্তব্য করলেও, তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফিরতি বার্তা আসেনি। ইরান সরকার পুতিনের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাবে নাকি নিজস্ব শক্তিতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল বাড়ছে।
রাশিয়ার এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতি কার্যত দুই মেরুতে বিভক্ত। পুতিনের এই প্রস্তাব যদি সফল হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। একইসঙ্গে, এটি ইরানের ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের একটি বড় সুযোগ হতে পারে—তবে সবকিছুই এখন ঝুলে আছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) নজরদারি পুনরায় শুরু করবে কি না, তা নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬





