সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ এক দশকের বর্ণাঢ্য ও সফল অধ্যায় শেষ করেছেন পেপ গার্দিওলা। কিংবদন্তি কোচ আপাতত বেকারই আছেন। তবে তাকে ইতালির ডাগআউটে দেখতে চাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। টানা তিনটি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ করতে না পারার দুঃখ ঘোচাতে গার্দিওলাকে সম্ভাব্য কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রেখেছেন পাওলি মালদিনি।
ইতালির সংবাদ মাধ্যম ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই খবর। এফআইজিসি তাদের সম্ভাব্য কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই মাস্টারমাইন্ডকে সবার ওপরে রেখেছে।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। টানা তিনবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি তারা। ইউরোপীয় অঞ্চলের সর্বশেষ বাছাইয়ে ব্যর্থতার পর প্রধান কোচের পদ থেকে জেনারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন।
সেই শূন্যস্থান পূরণে এবং ইতালিয়ান ফুটবলের খোলনলচে বদলে ফেলতে নতুন কোচ খুঁজছে এফআইজিসি। ফেডারেশনের নবনিযুক্ত কারিগরি পরিচালক ও ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনির নেতৃত্বে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা চলছে। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতালির ফুটবল পুনর্গঠনের এই প্রজেক্টে গার্দিওলাকেই ‘স্বপ্নের প্রার্থী’ হিসেবে দেখছেন মালদিনি।
তবে গার্দিওলার পাশাপাশি ইতালির সাবেক দুই সফল কোচ রবার্তো মানচিনি ও আন্তোনিও কন্তের নামও আলোচনায় রাখা হয়েছে। মানচিনির অধীনেই ২০২১ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজ্জুরীরা।
গার্দিওলাকে ইতালির কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া মোটেও সহজ হবে না এফআইজিসির জন্য। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের দাবি, তার মোটা অংকের বেতনের চাহিদাই এই চুক্তির সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটিতে শেষ মৌসুমে গার্দিওলা প্রায় ৩৪৬ কোটি টাকা (বার্ষিক পারিশ্রমিক) পেয়েছেন, যা বহন করা ইতালিয়ান ফেডারেশনের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। তবে গাজেত্তার দাবি, ইতালির প্রতি গার্দিওলার অন্যরকম ভালোবাসা থাকায় এই প্রজেক্টের ক্ষেত্রে অর্থ হয়তো মূল বাধা নাও হতে পারে।
এর আগে গার্দিওলা নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে কোনো এক সময় জাতীয় দলের কোচ হয়ে বিশ্বকাপ বা ইউরোর অভিজ্ঞতা নেওয়ার প্রবল আগ্রহ আছে তার। যদি শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে গার্দিওলা আজ্জুরীদের দায়িত্ব নেন, তবে লায়োস সাইজল্যারের পর তিনি হবেন ইতালির ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয় বিদেশি প্রধান কোচ।




