ইরান যুদ্ধের কারণে প্রচলিত নাইট্রোজেন সারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের কৃষকরা বিকল্পের সন্ধান করছেন। কেউ মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন। আবার কেউ মানুষের মূত্র ব্যবহার করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ শুক্রবার (২২ মে) এ তথ্য জানিয়েছে।

বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার ইউরিয়ার বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এর দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি কৃষকদের শরৎকালীন রোপণ মৌসুমের আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে, নতুবা কম ফলন, মুনাফা হ্রাস এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।
কেউ কেউ গোবরের মতো বহু পুরোনো সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যরা নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্জ্যভিত্তিক উপকরণ, যেমন- বাদামের খোসা এবং অণুজীবভিত্তিক পণ্য।
ফরাসি স্টার্টআপ টুপি অর্গানিকস-এর ফ্রাঁসোয়া জেরার্ড বলেন, “দুঃখজনকভাবে, যুদ্ধের পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি ভালো জিনিস।”
তার প্রতিষ্ঠানটি স্কুল ও উৎসব থেকে সংগৃহীত মানুষের মূত্রকে ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক খাদ্যে রূপান্তরিত করে যা গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে বিক্রি প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে এবং প্রচুর সরবরাহের কারণে দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে যেভাবে চাহিদা বাড়ছে তাতে সরবরাহ সংকটের সম্মুখীন হতে পারে টুপি অর্গানিকস। প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী বছর তার মূত্র সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক নাইট্রিসিটি, যারা গুঁড়ো বাদামের খোসা থেকে সার তৈরি করে, তারা নতুন করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে। কারণ ২০২৮ সাল পর্যন্ত তাদের সমস্ত পণ্য অগ্রীম বিক্রি হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
হরমুজে প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন ও ইরানি অবরোধের কোনো শেষ দেখা না যাওয়ায়, সার সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে ফসলের উৎপাদন কম হতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অতিরিক্ত আরো চার কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হতে পারে।




