আশুরা উপলক্ষে ঢাকায় ৬৩ মিছিলে বিশেষ নজরদারি | চ্যানেল আই অনলাইন

আশুরা উপলক্ষে ঢাকায় ৬৩ মিছিলে বিশেষ নজরদারি | চ্যানেল আই অনলাইন

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিল ও বিভিন্ন শোক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, এবারের আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের ২৮টি ইমামবাড়ার উদ্যোগে ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মিছিলের জন্য পৃথক রুট নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

তিনি বলেন, হোসেনী দালান, আঞ্জুমান হায়দারী, বড়কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় সিসিটিভি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তাজিয়া মিছিলের রুট ও ট্রাফিক ব্যবস্থা

আগামী ২৬ জুন শুক্রবার সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি বকশীবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমণ্ডি হয়ে ধানমণ্ডি লেকের কারবালা প্রান্তে গিয়ে শেষ হবে।

মিছিল চলাকালে নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে নগরবাসীকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

ডিএমপি কমিশনার জানান, প্রতিটি মিছিল ও সমাবেশস্থলে ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং এবং ছাদে নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে।

বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নাশকতা ঠেকাতে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‍্যাব, সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে প্রতিটি ভেন্যু ও মিছিলের রুটে সুইপিং কার্যক্রম চালানো হবে।

হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং ধানমণ্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায় ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হবে।

মিছিলে থাকছে নানা নিষেধাজ্ঞা

ডিএমপি কমিশনার জানান, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিছিলে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার নিশান বহন করা যাবে না। ছুরি, চাকু, লাঠি, তরবারি, বর্শা, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, সুটকেস বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র, পিএ সিস্টেম, ঢাক-ঢোল, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি আয়োজক কমিটিগুলোকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে তারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারেন।

গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি

অনলাইন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কার্যক্রম চালু থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, কোনো মিছিলের রুট বা ইমামবাড়ায় সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।

কোনো ইমামবাড়া বা মিছিলের রুটে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পুলিশ কিংবা ডিএমপির ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম- ০১৭১১০০০৯৯০, ০১৭১১০০০৯৯১, পুলিশ কন্ট্রোলরুম-০১৩২০০৩৭৮৪৫, ০১৩২০০৩৭৮৪৬ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা।

Scroll to Top