তাঁর গাওয়ার কথা ছিল কলকাতার শিল্পীদের সঙ্গে, দ্বিতীয় দিন। কিন্তু তিনি বলে ওঠেন, ‘আমি তো বাংলাদেশের (কিশোরগঞ্জের) লোক। আমাকে ক্যান এই পারের লোকদের সাথে রাখছ?’ তিনি গোঁ ধরে বসে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আয়োজকদের নতি স্বীকার করতেই হয়। দেবব্রত বিশ্বাস গান গাইলেন প্রথম দিনই, বাংলাদেশের শিল্পীদের সঙ্গে।
সেই দিন মঞ্চে পরিবেশিত হয়েছিল বাংলাদেশের শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা ‘রূপান্তরের গান’। তাঁদের পরিবেশনার ফাঁকে দেবব্রত বিশ্বাস এককভাবে গান করেন তিনটি রবীন্দ্রসংগীত। পরের দিন ৪ জুলাই, মঞ্চে ওঠেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা—শান্তিদেব ঘোষ, সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, নীলিমা সেন, সাগর সেনসহ অনেকে। আবৃত্তি করেন শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র, অপর্ণা সেন প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধে ব্যক্তিগত উদ্যোগ
দেবব্রত বিশ্বাস বুঝেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পাশে সাধারণ মানুষকে দাঁড় করাতে হবে, গানের শক্তি দিয়েই গড়ে তুলতে হবে জনমত। তাই তিনি নিজের উদ্যোগে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ছেলে দ্বিজেন্দ্রনাথের পৌত্র সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দুটি গান লিখে পাঠাতে। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত’-এ দেবব্রত লিখেছেন, ‘আমার জন্মভূমি পূর্ববঙ্গের অর্থাৎ বাংলাদেশের আমার ভাই-বোনেরা জীবন-মরণ পণে যে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই লড়াইকে তিনি (সৌমেন্দ্রনাথ) সমর্থন করেন কি না জানতে চাইলাম। যদি সেই লড়াইয়ের প্রতি তাঁর সামান্য একটু সমর্থন থাকে, তাহলে ওদের মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে দুটি গান আমায় লিখে পাঠাতে অনুরোধ জানালাম, যাতে সেই গান দুটির রেকর্ড প্রকাশ করে এবং নানা অনুষ্ঠানে গেয়ে এপার বাংলার জনসাধারণকে বাংলাদেশের আমার ভাইবোনদের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল করে তুলতে পারি।’



