অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের নিন্দা | চ্যানেল আই অনলাইন

অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের নিন্দা | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের অন্যতম সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বহু বহু বছর পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের প্রাথমিক অভিপ্রায় হিসেবে আমাদের কাছে প্রতিভাত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই নির্বাচনগুলো বানচাল করে শিক্ষার্থী সমাজের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার কেড়ে নেওয়া ও ক্ষমতাকে প্রশাসনিকভাবে কেন্দ্রীভূত করে রাখার প্রচলিত পাঁয়তারাও আমরা লক্ষ করছি।

আমরা মনে করি, জাকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র বিদ্যামান। সেটারই অংশ হিসেবে জাকসু নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ মনোনীত সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায়কে নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্বাচন কমিশন। আমরা বিধিবহির্ভূতভাবে অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

বিবৃতিতে আর বলা হয়, কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করে। তবে, আচরণ বিধিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী প্রার্থীকে ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য নির্বাচন কমিশন অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে যে যুক্তি দিয়েছে তাতে তারা জাকসু গঠনতন্ত্রের বিধিমালা ৪ ও ৮ ধারার কথা উল্লেখ করেছে। খেয়াল করার বিষয়, এখানে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার কোনো ধারাকে কমিশন সামনে রাখেনি, রেখেছে খোদ জাকসুর গঠনতন্ত্রকে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখন জাকসু নির্বাচনের তফশিল অনুযায়ীই গত ৬ সেপ্টেম্বর নেওয়া সিদ্ধান্ত অনিয়মতান্ত্রিক হয়ে যায়। কেননা, তফশিল অনুযায়ী গত ১৭ আগস্ট ছিল চূড়ান্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। ২৬ আগস্ট মনোনয়নের বৈধতার বিষয় আপিল আবেদন গ্রহণের দিন। ২৭ আগস্ট আপিলের শুনানির দিন। ২৭ আগস্ট আপিলের রায় ঘোষণার দিন। আর ২৯ আগস্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন। এই ১৭ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়াতেই অমর্ত্য রায় ভোটার ও প্রার্থী ছিলেন। এখন নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বরং এই পদক্ষেপের সততা নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তার নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, অমর্ত্য রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। কিন্তু, এটা মোটেও বোধগম্য নয় যে, তারা এতগুলো প্রক্রিয়া অতিক্রম করার পর এরকম একজন গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থীর ব্যাপারে কেন হঠাৎ আবিষ্কার করলেন যে, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী নন? এটা কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি নয়? তাদের গাফিলতির দায় কেন একজন শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে? কিন্তু, অমর্ত্য রায়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আচরণ নতুন নয়, বরং এর ইতিহাস এতই ন্যাক্কারজনক যে, আমল বদলালেও আমরা দেখতে পাচ্ছি নিবর্তনের সংস্কৃতি বদলায়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অমর্ত্য রায় এবং অমর্ত্য রায়ের মতো প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা বিগত প্রশাসনের সময় যে অবিচারের শিকার হয়েছেন, সুবিচার থেকে বঞ্চিত করার সে রেওয়াজ বর্তমান প্রশাসনও অব্যাহত রেখেছে।

অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অমর্ত্য রায়ের ভোটার ও প্রার্থিতার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং জাকসু নির্বাচনকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে তার নিজস্ব গতিতে চলার দাবি জানানো হয়।

Scroll to Top