কাজের তাগিদে বাইরে যেতেই হয়। এই গরমে বাইরের বিরূপ আবহাওয়ায় সুস্থ থাকার উপায় কী? ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।
পানি হোক সঙ্গী
গরমে আপনার পরম বন্ধু পানি। বাইরে গেলে পানি সঙ্গে রাখুন। যেখানে–সেখানে পানি বা পানীয় খাবেন না। রাস্তার লেবুপানি, আখের রস প্রভৃতির মাধ্যমে নানা রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গরমে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করাও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। ধাতব বোতল ব্যবহার করতে পারেন। থার্মোফ্লাস্কে পানি রাখা সবচেয়ে ভালো।
বেশ লম্বা সময় পানির ঠান্ডা ভাব বজায় থাকে এই ফ্লাস্কে। দাম একটু বেশি হলেও এই ফ্লাস্ক স্বাস্থ্যকর আর ব্যবহারও করা যায় দীর্ঘদিন। পানির বোতল বা ফ্লাস্ক সরাসরি রোদে না রাখাই ভালো।

বাইরে যাওয়ার আগে বোতলে পানি ভরে নেওয়ার সময় তাতে প্রথমে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বরফ নিয়ে নিতে পারেন। বরফ নেওয়ার পর বোতলে পানি ভরে ফেলুন। এভাবে পানি নিলে লম্বা সময় পর্যন্ত ঠান্ডা থাকবে। বাইরে থেকে ফিরে বোতল পরিষ্কার করে রাখা ভালো।
তবে গরমের ভেতর একেবারে বরফঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়। তাতে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঠান্ডা পানি খেতে চাইলে রোদ থেকে ছায়ায় গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করুন আগে।
পোশাক ও অনুষঙ্গ
গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। রোদ আর ধুলা-ময়লা থেকে বাঁচতে চুল ঢেকে রাখুন। শরীরও ঢেকে রাখুন যতটা সম্ভব। সাদা বা হালকা রঙের ফুলহাতা জামা আর ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরলে গরমে স্বস্তি পাবেন।ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন। চুল বড় হলে গুছিয়ে বেঁধে রাখুন। ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
সঙ্গে রাখুন এসবও
ব্যাগে রাখুন সানস্ক্রিন সামগ্রী। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর তা প্রয়োগ করুন ত্বকে।
ভালো মানের একটি ছাতাও রাখুন ব্যাগে। রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছাতা কাজে দেবে।
ছোট, রিচার্জেবল ফ্যান রাখতে পারেন সঙ্গে। ঘাম হলে যত দ্রুত সম্ভব মুছে ফেলুন।
সঙ্গে রুমাল রাখা ভালো। বেশি ঘেমে গেলে টিস্যু পেপারের চেয়ে রুমাল দিয়ে ঘাম মোছা সহজ। এ ছাড়া রাখতে পারেন ভেজা টিস্যু কিংবা একটি ছোট স্প্রে বোতল। মুখ ভেজানোর জন্য কাজে আসে এই দুটি জিনিস।
দূরে কোথাও গেলে এমন স্ন্যাকস রাখুন ব্যাগে, যা সহজে পচে যায় না। ফলমূল নিতে পারেন। তাতে পানির চাহিদাও মিটবে।


