‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, ডিবেটিং সোসাইটির অনুষ্ঠানে হাসনাত-সাদিক’ | চ্যানেল আই অনলাইন

‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, ডিবেটিং সোসাইটির অনুষ্ঠানে হাসনাত-সাদিক’ | চ্যানেল আই অনলাইন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে একটি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। একই দাবি সাদিক কায়েমের একটি ভিডিও বক্তব্য এবং বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টেও দেখা যায়।

তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার ও বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকারদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়; বরং অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, যার মূল আয়োজক ছিল ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’ নামের একটি স্বাধীন সংস্থা।

বিষয়টি নিয়ে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বারে আয়োজিত যে অনুষ্ঠানে সাদিক কায়েম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাবিলা ইদ্রিস অংশ নেন, সেটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না।

পোস্টে আরও বলা হয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের কাছে পাঠানো এক ইমেইলের জবাবে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কেবল ডিবেটিং চেম্বারটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে কেউ চাইলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে তাদের ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, আয়োজন কিংবা অতিথি আমন্ত্রণের সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, সাদিক কায়েম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে গেছেন। সাদিক কায়েমও তার একটি ভিডিও বক্তব্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সেখানে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে দেখা যায়, গত ১৪ জুন ‘The July Revolution and the Return of Democracy in Bangladesh’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তা হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিক কায়েম, নাবিলা ইদ্রিস ও আলিয়ার রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়।

একই বিষয়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও একটি প্রচার পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টটিতে অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং বক্তাদের পরিচিতি দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য একটি নিবন্ধন ফরমও সংযুক্ত ছিল। ওই ফরমের শিরোনামে ছিল, “Oxford Union-Bangla Society Bangladesh Panel: Meet and Greet”।

এছাড়া যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যম Cherwell-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি ১৪ জুন ‘The Student-Led Uprising and the Future of Post-Revolutionary Bangladesh’ শীর্ষক একটি আলোচনা আয়োজন করে, যেখানে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন অনুষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব ও গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন একটি স্বাধীন বিতর্ক সংগঠন। এটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। যদিও সংগঠনটি মূলত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী বিতর্ক মঞ্চ হিসেবে পরিচিত।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তারা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ডিবেটিং চেম্বারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন, যার আয়োজক ছিল অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে’ তারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, এমন দাবির পক্ষে অনুসন্ধানে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রিউমার স্ক্যানার ও বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকারগণ।

Scroll to Top