কমিশনের ৩২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এর আগে গত সোমবার প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেন কমিশনের সদস্যরা। পাঁচ সদস্যের কমিশনের সভাপতি হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক, আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন ও নির্বাচনবিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম। তিন নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে গত জুনে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে সেটিকে কমিশনে রূপান্তর করা হয়।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি, হস্তক্ষেপ এবং সর্বোপরি একটি নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রমে ড্রাইভিং সিটে (চালকের ভূমিকা) থাকতে একটি ‘স্পেশাল সেল’ স্থাপন করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিত ছিল। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তাদের ভেটিং (যাচাই) ও বদলি, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভেটিং ও পুনর্বিন্যাস, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি এবং নির্বাচনের আগের রাতে ভোটের পরিকল্পনায় এই বিশেষ সেল বিশেষ ভূমিকায় ছিল।
কমিশনের প্রতিবেদনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম, অসংগতি, আওয়ামী লীগকে জেতাতে নেওয়া কৌশল, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি, প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ইত্যাদি তুলে ধরা হয়।
গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেওয়ার পর করা সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বলেছিল, তিন নির্বাচনে অনিয়ম করে জেতার ‘অভিনব’ পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের ভোটের পর থেকেই। এই পরিকল্পনা হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে। আর তা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কমিশন ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তদন্তের সুপারিশও করেছে।


