গেল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরের আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি মজুতকেন্দ্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
রিয়াদজুড়ে তখন বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। একইভাবে জেদ্দা, তাইফ ও ইয়ানবুসহ দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলেও সতর্কসংকেত শোনা যায়।
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার ঢেউয়ের মুখে সৌদি আরব কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই হামলা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
হুতিরা বলছে, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই তারা সৌদি আরবে এসব হামলা চালাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তাঁর বন্ধু সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সহায়তা করবেন?
২০১৯ সালে ইরাক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছিল। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবকে সহায়তা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
এবারও যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়ে হোয়াইট হাউসে ফোন করেছেন। কিন্তু ট্রাম্প আবারও না বলেছেন।
গত বছর ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির সময় মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির কাছ থেকে সেই বিনিয়োগের বিনিময়ে সৌদি আরব প্রায় কোনো সুরক্ষাই পাচ্ছে না।
ট্রাম্প প্রশাসন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে মরিয়া হয়ে অনিচ্ছুক।
ইরানকে অবরোধে মার্কিন বাহিনী এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এর পরিবর্তে ট্রাম্প এমন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করেছেন, যারা ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে আট বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের পর কার্যত অচলাবস্থায় ফেলেছিল।
সম্প্রতি ওমানে মাসকাটে যে চুক্তি হয়েছে, তার আওতায় হুতিদের নেতারা ২০২৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে সৌদি জাহাজ এর আওতার বাইরে থাকবে।

অর্থাৎ, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, আর যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে বাইরে থাকবে। মোহাম্মদ বিন সালমানকে কার্যত কূটনৈতিকভাবে একা ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র আরব দেশগুলোর সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের জার্মানিতে একটি বৈঠকে একত্র করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই গোপন বৈঠকের আয়োজন করেছিল। পরে ইসরায়েলই বৈঠকের তথ্য ফাঁস করে দেয়।
ইসরায়েলি সাংবাদিক বারাক রাভিদের কাছে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই ‘ব্যক্তিগত বৈঠক’-এর আয়োজন করেছিলেন।
এতে ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিসরের সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা অংশ নেন।
আরব দেশগুলো যখন গোপনে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে, তখন তাদের এখন বুঝে যাওয়া উচিত যে সেই গোপনীয়তা বেশিদিন টিকবে না।
কারণ ইসরায়েল গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার কথা প্রকাশ করে দেওয়ার জন্য পরিচিত।
ইসরায়েল গোপন কূটনীতিকে খুব একটা গোপন রাখতে পারে না। পশ্চিমাপন্থী আরব দেশগুলো ‘ইহুদিবাদী সত্তা’ হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের সঙ্গে বহু দশক ধরে গোপনে নানা ধরনের সমঝোতা ও চুক্তি করে আসছে। এসব সম্পর্কের কথা নতুন কিছু নয়।
চলতি মাসের শুরুতে হুতি যোদ্ধারা দক্ষিণ হোদেইদা ও পশ্চিম তাইজ থেকে দ্রুত হামলা চালায়। রাতারাতি তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোকা দখল করে নেয়।
এরপর তারা বাব আল-মানদেব প্রণালি এবং ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নজরদারি করা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের দখল নেয়।
এ সময় সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী সেখান থেকে সরে যায়। লড়াই ছিল রক্তক্ষয়ী। হুতিবিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছে, তাদের ৫০০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত এবং ১ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন।
মোকা ও অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এখনো সংঘর্ষ চলছে। ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে হুতিরা সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে।

লোহিত সাগরের সঙ্গে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। কিন্তু মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নতুন মিত্র তুরস্ক ও পাকিস্তান এখনো রিয়াদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
তাহলে তারা যদি না আসে, আর ওয়াশিংটনও যদি না আসে, তাহলে সৌদি আরবকে কে সহায়তা করবে?
এখানেই সামনে এসেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ইয়েমেনিদের বিষয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে।
তবু রিয়াদ ইসরায়েলকে নির্ভরযোগ্য সামরিক অংশীদার হিসেবে দেখছে না বলে মনে করেন উপসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ।
তিনি দ্য নিউ আরবকে বলেছেন, ‘রিয়াদ ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে ইসরায়েলনির্ভর কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে চায় না।’
ইরানের মিত্র হুতিরা লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের প্রধান পথ বন্ধ করে দিতে পারে-এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইসরায়েল ও সৌদি আরব-দুই দেশকেই বিপুল পরিমাণ বোমা সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে। সৌদি আরবের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।
এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালির প্রায় অচল পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় তেল ও ডিজেলের দামও আরও বেড়েছে।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আল-মনিটরকে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে হুতিদের ওপর কারও প্রতিরোধক্ষমতা নেই। আমেরিকানদেরও নেই, আমাদেরও নেই, আর সৌদিদের তো অবশ্যই নেই। তারা এমন এক অপ্রত্যাশিত শক্তি, যাকে কেউ হিসাবের মধ্যে রাখেনি।’
এদিকে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সৌদি আরবে সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ব্রিটেন আবারও ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য ট্রাম্প সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে তিনি সৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং এক টন ওজনের বোমা বিক্রি করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইসরায়েল ও সৌদি আরব-দুই দেশকেই বিপুল পরিমাণ বোমা সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে। সৌদি আরবের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার জেডিএএম নির্দেশনাব্যবস্থা এবং ১০ হাজার বোমা। এসব বোমার অর্ধেক ৫০০ পাউন্ড ওজনের এবং বাকি অর্ধেক ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বিএলইউ-১১৭ বোমা।
ইসরায়েলের জন্য অনুমোদিত ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের এই চালানে রয়েছে ৪০ হাজার বোমা। এর অর্ধেক বিএলইউ-১১৭ এবং বাকি অর্ধেক এমকে-৮৪।
এর সঙ্গে রয়েছে শক্তভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ২০ হাজার পেনিট্রেটর ওয়ারহেড। কয়েক বছরের মধ্যে ইসরায়েলের কাছে এ ধরনের বোমার এটিই সবচেয়ে বড় একক চালান।
এই পরিকল্পিত অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাষ্যকার টাকার কার্লসন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বোমার মোট ওজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের টোকিও ও হিরোশিমায় চালানো বোমা হামলায় ব্যবহৃত বোমার পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
টোকিও ও হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিমান হামলার মতোই এসব বোমা গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনের নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সর্বশেষ উত্তেজনা কীভাবে শেষ করা যেতে পারে? ইয়েমেনের ৭০ শতাংশের বেশি জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা আনসার আল্লাহ বা হুতিরা বলছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ১২ বছর ধরে চলা অবরোধ তুলে নিলেই যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব।
হুতিদের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-বুখাইতি স্কাই নিউজকে বলেছেন, সানা ‘অবরোধের অবসান এবং ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ’ করতে চায়। তাঁর ভাষায়, ‘বল এখন সৌদিদের কোর্টে। এই যুদ্ধ বন্ধ করা হবে কি না, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা করেছি, তা হলো অবরোধের জবাবে অবরোধ।’ তিনি সৌদি আরবের ইয়েমেনবিরোধী আকাশ, স্থল ও সমুদ্র অবরোধের কথা উল্লেখ করছিলেন।
তাঁর দাবি, এই অবরোধ ইয়েমেনের মানুষকে অনাহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
এর ফলে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
মার্কিন সাংবাদিক রায়ান গ্রিমের ভাষায়, বৃহত্তর এই সংঘাতের সমাধান খুবই সহজ, যদিও ওয়াশিংটনের জন্য তা মেনে নেওয়া কঠিন।
এরই মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের বোঝা বাড়িয়ে চলেছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মালিকেরা উদ্বেগজনক হারে সেগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর হয়তো ট্রাম্প অথবা তাঁর উত্তরসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পথ অনুসরণ করতে পারেন। নিক্সন যেমন একসময় ওয়াশিংটনের শত্রুদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তেমন উদ্যোগ এবারও দেখা যেতে পারে।
তাঁর মতে, ‘যুদ্ধগুলো বন্ধ করতে হবে এবং ইয়েমেন ও ইরানকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমান মর্যাদা দিতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলাও বন্ধ করতে হবে। ব্যস, এটাই মূল কথা। তাদের শুধু আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।’
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বিষয়টি বিস্ময়কর। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিজেদের এবং তাদের মিত্রদের কর্মকাণ্ডকে আত্মরক্ষামূলক হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যখন বাস্তবে তারা কয়েক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা, হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে?
এই সংঘাত এখন সময়ের হিসাবে শীতল যুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘ হয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্য এখনো এমন একটি বাস্তববাদী অবস্থানে পৌঁছায়নি, যেখানে তারা নিজেদের লাগামহীন আধিপত্য থেকে মর্যাদার সঙ্গে পিছিয়ে আসতে পারে।
তবু মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ছয় সপ্তাহ বাকি। ট্রাম্পকে এখন মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর শুরু করা যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে হবে।
একই সঙ্গে তাঁকে আমেরিকানদের জন্য রেকর্ড পর্যায়ে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দামও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। হুতিদের সঙ্গে চুক্তির পেছনে এই কারণগুলোও কাজ করেছে।
ওয়াশিংটন এখনো তার প্রতিপক্ষদের বৈধ স্বার্থসম্পন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নয়।
জুন মাসে ইরানের সঙ্গে করা একটি সমঝোতার স্মারক আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছিল। কিন্তু তার পরপরই ট্রাম্প সেটি বাতিল করে দেন।
তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করতে পারে। রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির কারণে রাজনৈতিকভাবে শাস্তি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের বোঝা বাড়িয়ে চলেছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মালিকেরা উদ্বেগজনক হারে সেগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর হয়তো ট্রাম্প অথবা তাঁর উত্তরসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পথ অনুসরণ করতে পারেন। নিক্সন যেমন একসময় ওয়াশিংটনের শত্রুদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তেমন উদ্যোগ এবারও দেখা যেতে পারে।
তবে তা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলাতে হবে এবং ইসরায়েলকে ছেড়ে দিতে হবে।
-
জো গিল লন্ডন, ভেনেজুয়েলা ও ওমানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।
মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ।