
ঢাকা, ০৯ অক্টোবর – দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও উপসর্গ ও ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়।
১. মৃত্যুর মিছিল ও বিভাগওয়ারী চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারা যাওয়া ৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। বিভাগের হিসাবে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর (২০২৬) দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪৩ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
২. শনাক্ত ও সন্দেহভাজন সংক্রমণের হালনাগাদ
কেবল মৃত্যুই নয়, প্রতিদিন নতুন করে বিপুল সংখ্যক শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে বা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে:
নিশ্চিত হাম শনাক্ত: গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮১ জনের শরীরে নিশ্চিত হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। এতে দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২২ হাজার ১৯৭ জনে।
সন্দেহভাজন রোগী: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে চলতি বছর মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৩ জনে।
হাসপাতাল ও সুস্থতা: গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।
৩. স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের হার কমে যাওয়া কিংবা টিকার ডোজ মিস করার কারণে এই মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ:
উপসর্গ চিনুন: উচ্চ জ্বর, শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া এবং সর্দি-কফ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
আইসোলেশন নিশ্চিত করুন: আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
টিকাদান নিশ্চিতকরণ: আপনার শিশুর হাম-রুবেলা (MR) টিকার নির্ধারিত ডোজগুলো দেওয়া হয়েছে কি না দ্রুত নিশ্চিত করুন। কোনো ডোজ বাদ পড়ে থাকলে সরকারি কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬



