সিসিকে দুর্নীতির মহোৎসব, শত কোটি টাকার লুটপাটে জড়িত ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী!

সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জাল নথি তৈরি, অবৈধ ভবনের নকশা অনুমোদন, টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য এবং শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সিসিকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুল রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরসহ ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করছে সংশ্লিষ্ট চক্র।

সিসিকে দুর্নীতির মহোৎসব

সিসিকের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মের অভিযোগ পেলে সরেজমিনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তিনি। তবে নগর ভবনের ভেতরে সক্রিয় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ ওঠায় তাঁর উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিসিকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি দুদকের নজরে এসেছে। একজন ভুক্তভোগী দুদকের ঢাকা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেছেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের একটি দল শিগগিরই কাজ শুরু করতে পারে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত হলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের অনিয়ম সামনে আসবে বলে মনে করছেন নগরবাসীর একাংশ।

এর আগে সিলেট নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানসহ একাধিক ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক দুদকের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে সিসিকের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সমর্থনে দাপ্তরিক নথিপত্র সংযুক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সিসিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রভাব ও অনিয়মের সুযোগ আরও বেড়েছে।

অভিযোগে সিসিকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুল রহমান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরকে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নূর আজিজুল রহমান বর্তমানে ডেপুটেশনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত এবং মো. আলী আকবরকে বগুড়া পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বদলির পরও তাঁরা সিসিকের পুরোনো তারিখে নথি তৈরি, ফাইল জালিয়াতি ও কমিশন বাণিজ্যের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাশাপাশি বিপুল অর্থের তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে পুনরায় সিসিকে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সিসিকের প্রশাসনিক ও প্রকৌশলসংক্রান্ত নথি অনুমোদন, ভবনের নকশা যাচাই এবং সরকারি পে-অর্ডার জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত দপ্তর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দাপ্তরিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেট থেকে সিসিকের সাবেক মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক সিলের নকল তৈরি করা হতো। সরকারি নথিতে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও জাল করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট শোবার ঘরে বসে রাতারাতি অবৈধ ভবনের নকশা অনুমোদন ও পূর্ববর্তী তারিখ দেখিয়ে সরকারি নথি তৈরি করা হতো। এভাবে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিভিন্ন ভবনের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুতের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে।

সিসিকের প্রায় ২৫৮ জন অস্থায়ী ও দিনমজুর কর্মচারীকে চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। হাইকোর্টে প্রসেসিং ফি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কর্মচারীরা টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সিসিকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুল রহমানের বিরুদ্ধে গত দুই দশক ধরে ড্রেনেজ, ছড়া ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার বরাদ্দে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধ নকশা অনুমোদনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

২০০৭ সালের ১/১১-এর জরুরি অবস্থার সময় ঘুষ গ্রহণ ও টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগে যৌথ বাহিনী নূর আজিজুল রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাশাপাশি একাধিক ফৌজদারি মামলায় সংশ্লিষ্টতার তথ্যও মূল অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৩ মে সিসিকের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ওপর থেকে ভারী স্টিলের পাইপ পড়ে ল্যান্স করপোরাল মো. দেলোয়ার হোসেন নামের এক সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলা নং-২৪/১৫০-এর ১ নম্বর অভিযুক্ত আসামি নূর আজিজুল রহমান। এ ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলা নং-০১ এবং সিআর মামলা নং-৩৫২-তেও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।

বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত থাকলেও নূর আজিজুল রহমান সিসিকের পূর্ববর্তী তারিখে নথি প্রস্তুত ও জালিয়াতিসংক্রান্ত সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিসিকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর ২০০৭ সালে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আজিজুল রহমানের মাধ্যমে নাটোর পৌরসভা থেকে সিসিকে যোগ দেন। প্রায় দুই দশকের কর্মজীবনে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুটপাট ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বগুড়া পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে।

সিলেটের কদমতলীতে নির্মিত নতুন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পর গঠিত তদন্ত কমিটিতে আলী আকবরকে সমন্বয়ক করার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী ছিলেন তাঁর আপন ভাই। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে তদন্ত কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে। চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব খাটিয়ে পদে বহাল ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রাজিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও ভবনের নির্ধারিত সেফটি গ্যাপ উপেক্ষা করে ঝালোপাড় এলাকায় মাত্র তিন ফুট প্রশস্ত রাস্তার ওপর বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এ ছাড়া মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অসংখ্য নকশাবহির্ভূত ভবন অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সিসিক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেট নগরীর গোয়াবাড়ি এলাকায় তাঁর আনুমানিক এক কোটি টাকা মূল্যের নামফলকহীন বিলাসবহুল বাংলো, ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একাধিক জমি রয়েছে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কায়সার রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে রাজিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়মসংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করেন।

সিসিকের উপসহকারী প্রকৌশলী এটিএম সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি বিল থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ লাখ টাকার একটি বিলের বিপরীতে তিনি এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সিলেটের খাদিম এলাকায় একটি বড় গরুর খামার ও বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

সিসিকের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদের বিরুদ্ধেও অবৈধ ভবনের অনুমোদন দিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে তাঁকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলী আকবরের সঙ্গে সমন্বয় করে বেআইনি ভবনের অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

সিসিকের প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি রাজস্ব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিসিকের প্রধান অ্যাসেসর মো. আব্দুল বাতিতের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে নগরীর বাণিজ্যিক ভবন, বহুতল আবাসিক ভবন ও অভিজাত মার্কেটগুলোর গৃহকর প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় অস্বাভাবিক কম নির্ধারণের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীনের বিরুদ্ধে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতি মাসে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

লাইসেন্স শাখার প্রধান রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধেও নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স দেওয়ার অজুহাতে তিনি প্রতিদিন প্রায় এক লাখ টাকার বেশি অবৈধ ঘুষ আদায় করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রেজাই রাফিনের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দুর্নীতির সিন্ডিকেটকে পরোক্ষভাবে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করেননি। পাশাপাশি নথি জালিয়াতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত চক্রের কার্যক্রমে তাঁর পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জ্বালানি খাতেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়ার পর কোনো কারণ দেখিয়ে বা কাজ না করেই প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে। পরে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাতিল কিংবা ভুয়া প্রকল্পের নামেও সিসিকের সরকারি গাড়ির জন্য জ্বালানি তেলের ভাউচার তৈরি করা হচ্ছে। এসব ভাউচারের বিপরীতে বিভিন্ন পাম্প থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল তুলে অবশিষ্ট তেল বাইরে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিসিকের এসব অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে সাংবাদিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, জ্বালানি তেলের ভাউচার এবং প্রশাসনিক নথি জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধানের সময় সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে মূল অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং নগরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিসিক থেকে অপসারণ, তাঁদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং দুদকের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

Scroll to Top