প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঝড়ো ফিফটি করা তাওহিদ হৃদয় ফাইনালে জ্বলে উঠতে পারেননি, ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসানও। ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখতে না পারলেও বল হাতে দুটি উইকেট নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন সাকিব। তবে অল্প পুঁজি নিয়ে জাফনা কিংসকে জেতাতে পারেনি দলটি। জাফনাকে হারিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শিরোপা জিতে প্রথম কোয়ালিফায়ারের হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে গল গ্যালান্টস। এলপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে তারা জয় পেয়েছে ৫ উইকেটে।
রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুক্রবার টস জিতে আগে ব্যাটে নেমে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৯.৩ ওভারে ১২৩ রান করে জাফনা। জবাবে ১৫.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে গল গ্যালান্টস।
আগে ব্যাটে নেমে দুই ওপেনার আভিষকা ফার্নান্দো ও কামিল মিশারা মিলে গড়েন ২৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ১৬ বলে ২০ রান করে ফেরেন ফার্নান্দো। এরপর তিন নম্বরে নেমে খাজা নাফে কোনো রান না করেই বিদায় নেন।
চারে নেমে মিশারার সঙ্গে জুটি গড়েন হৃদয়। শুরুটা ভালোই করেছিলেন বাংলাদেশের এ ব্যাটার। একটি চারও মারেন তিনি। তবে ১০ বলে ১০ রান করে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হৃদয়।
পাঁচে নামা ভানুকা রাজাপাকসেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। চারিথ আসালাঙ্কার ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৬ বলে ৩ রান করেন তিনি। একপ্রান্ত আগলে রাখা মিশারাকে সঙ্গ দিতে পারেননি দুনিথ ভেল্লালাগে। ৮ বলে ৩ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর ক্রিজে আসেন সাকিব। তবে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। মিশারার সঙ্গে কিছুক্ষণ জুটি গড়লেও ১৩ বলে ৯ রান করে আউট হন সাকিব। মিশারাও ফিফটির দেখা পাননি। ৩২ বলে ৪১ রান করে থামেন তিনি।
শেষদিকে চামিন্দু বিক্রমাসিংহের ১৬ বলে ২৪ রানের কার্যকরী ইনিংসে কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি পায় জাফনা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৬ বল বাকি থাকতেই ১২৩ রানে অলআউট হয় তারা।
গলের হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন ইশান মালিঙ্গা ও চারিথ আসালাঙ্কা। ২ উইকেট তুলেছেন থারিন্ডু রাথনায়েকে। ১টি করে উইকেট নেন সাচিন্দু কলম্বাগে ও আকিফ জাভেদ।
১২৪ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল গল। তবে রান তাড়ার শুরুতে তারাও ধাক্কা খায়। ওপেনার হার্পার মাত্র ২ বলে ১ রান করে ফিরে যান। এরপর রজার্স ও কালুপাহানা মিলে ইনিংসের গতি বাড়ান।
রজার্স ২৭ বলে ৩৪ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। অন্যদিকে কালুপাহানা ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। মাত্র ১৯ বলে ৩১ রান করে গলের রান তাড়াকে সহজ করে দেন তিনি। কালুপাহানার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার এবং তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৩.১৬।
চারিথ আসালাঙ্কা ৩ বলে ২ রান করে ফিরে গেলেও করুণারত্নে ১৭ বলে ১৬ রান করে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেন। এরপর আরাচ্চিগে ও অধিনায়ক শানাকা দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করার পথে এগিয়ে যান। দুইজনই অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে দলের শিরোপা নিশ্চিত করেন।
জাফনার হয়ে ৪ ওভার বল করে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন সাকিব ও ট্রাভিন ম্যাথিউ।




