শীর্ষ তিন পরাশক্তির বিরোধ সত্ত্বেও ইতিহাস গড়লেন ফলকার তুর্ক: জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান পদে পুনর্নির্বাচিত! – DesheBideshe

শীর্ষ তিন পরাশক্তির বিরোধ সত্ত্বেও ইতিহাস গড়লেন ফলকার তুর্ক: জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান পদে পুনর্নির্বাচিত! – DesheBideshe


শীর্ষ তিন পরাশক্তির বিরোধ সত্ত্বেও ইতিহাস গড়লেন ফলকার তুর্ক: জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান পদে পুনর্নির্বাচিত! – DesheBideshe

নিউ ইয়র্ক, ২৫ জুলাই – বিশ্বরাজনীতির প্রবল মেরুকরণ ও তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরায়েলের তীব্র বৈরিতা উপেক্ষা করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (UN High Commissioner for Human Rights) হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফলকার তুর্ক (Volker Türk)।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ঐতিহাসিক ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আরও চার বছরের জন্য এই প্রভাবশালী পদে অনুমোদন পেলেন। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের এই পদটি সৃষ্টির পর ফলকার তুর্কই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর দুই মেয়াদে পূর্ণ দায়িত্ব পালন করার নজির গড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।

ভোটাভুটির চিত্র ও পরাশক্তিগুলোর আপত্তি

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পেশ করা প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদের ১৪৪টি দেশ ফলকার তুর্কের পক্ষে ভোট দেয়। বিপরীতে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

ভোটাভুটির আগে ওয়াশিংটন ও মস্কো তুর্কের মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে জোর তৎপরতা চালায়:

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ প্রস্তাব: মার্কিন প্রতিনিধিরা ভোটদান স্থগিত রাখার ও অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাশিয়ার বিকল্প প্রস্তাব: মস্কো চেয়েছিল তুর্কের মেয়াদ যেন নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বা চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

তবে সাধারণ পরিষদে দুটো প্রস্তাবই সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে খারিজ হয়ে যায়।

কেন ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল?

২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক সংকটগুলোতে নিরপেক্ষ ও স্পষ্টভাষী ভূমিকার কারণে পরাশক্তিগুলোর চোখের কাঁটা হয়ে ওঠেন অস্ট্রিয়ার এই আইনজীবী।

ইসরায়েল: গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তুর্ক। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র দপ্তর অভিযোগ করেছে, তার অধীনে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং ৭ অক্টোবরের হামলাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে।

রাশিয়া: ইউক্রেন আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও রুশ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হওয়ায় জাতিসংঘের রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি চুমাকভ তুর্কের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ‘রাজনৈতিক স্বার্থ এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, সুদান ও মিয়ানমারের মতো দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সাথে সাথে বাইডেন প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু নীতির সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘চরমপন্থী এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের তোপ দাগে।

গুতেরেসকে ঘিরে বিতর্ক ও জাতিসংঘের সাফাই

জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে নিয়েও সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন। বলা হচ্ছিল, তিনি তার মেয়াদের শেষের দিকে এসে তাড়াহুড়ো করে এই নির্বাচনের আয়োজন করেছেন, যা তার উত্তরসূরির ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

তবে সমালোচকদের জবাব দিয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব শতভাগ নিয়ম মেনে, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ফলকার তুর্ককে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য মনোনীত করেছেন।

নতুন মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ফলকার তুর্ক জানান, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও তিনি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করে যাবেন।

এনএন/ ২৫ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top