লাশের ‘প্যাকেট’, বলেশ্বরের স্রোত ও গুমের গোপন ব্যাকরণ

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অপারেশনের দিন সাদাপোশাকের লোকেরা এসে চরদুয়ানী বাজারের বরফকলের দোকানপাট রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করে আলো নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যেত।

বিশ্বস্ত সোর্সদের তত্ত্বাবধানে চরদুয়ানী থেকেই খাবার, দড়ি, লাশ বাঁধার চাটাই থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় হতো।

অন্ধকার নিশ্চিত হলে ঘাটে আসতে শুরু করত গাড়ি, ঘাতক দল একে একে ট্রলারে তুলত চোখ-হাত বাঁধা ‘প্যাকেট’গুলোকে।

আশপাশের মানুষ উঁকিও দিত না; কারণ দু-একজন মুখ খুলতে গিয়ে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন।

এই প্যাকেট নামকরণটা কি নিছক নিষ্ঠুরতার ভাষা, নাকি সুচিন্তিত একটি কৌশল—সেটি একটি প্রশ্ন।

কারণ, অপরাধের যে কাঠামোতে ভিকটিমের কোনো পরিচয় থাকে না, সেই কাঠামোয় নির্দেশদাতার কোনো স্বাক্ষরও থাকে না, অপরাধীদের প্রকৃত পরিচয়ও জানা যায় না।

গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে গুমের বিভিন্ন অংশ, যেমন অপহরণ, নির্যাতন, বন্দিত্ব এবং হত্যা (কিংবা মুক্তি), ভিন্ন ভিন্ন দলের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে একটি দল অন্য দলের কাজ সম্পর্কে জানত না।

Scroll to Top