রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাপানের ডেপুটি চিফ অফ মিশন | চ্যানেল আই অনলাইন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাপানের ডেপুটি চিফ অফ মিশন | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের মন্ত্রী ও ডেপুটি চিফ অব মিশন (Deputy Chief of Mission) তাকাহাশি নাওকি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি জাপান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জাপান দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ জুলাই টেকনাফের ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাপান সরকারের গ্রান্ট অ্যাসিস্ট্যান্স ফর গ্রাসরুটস প্রজেক্টস (জিজিপি) কর্মসূচির আওতায় এনজিও মেডগ্লোবালের বাস্তবায়িত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উন্নয়ন প্রকল্প’-এর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী তাকাহাশি। অনুষ্ঠানে ক্যাম্প-ইন-চার্জ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মেডগ্লোবালের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এই প্রকল্পের মাধ্যমে টেকনাফে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জামের উন্নয়ন করা হয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ১৭ হাজার রোগীসহ প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকাহাশি বলেন, মেডগ্লোবালের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করি। দূতাবাসের সহায়তার যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে শিবিরের মানুষ ও স্বাগতিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন এ প্রকল্পের সুফল পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। জাপান ১৯৮৯ সাল থেকে জিজিপি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশে ২২৫টি এনজিও প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক নিরাপত্তা জোরদার করা। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তাকাহাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, জাপান শিবির ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরদিন ২০ জুলাই তিনি উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কেন্দ্র, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, ইউএন উইমেন পরিচালিত নারী-পরিচালিত বাজার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আশ্রয়কেন্দ্র এবং জাপানের সহায়তায় পরিচালিত একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। জাপান দূতাবাস জানায়, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন, আশ্রয়, সুরক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন খাতে কক্সবাজারে ২৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে জাপান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে জাপান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Scroll to Top