ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই নেতা বর্তমানে রাজনৈতিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
শনিবার ২৭ জুন প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নেতানিয়াহুর প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। একদিকে গাজা ও লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত, অন্যদিকে দুর্নীতির মামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের নীতিগত পার্থক্য নেতানিয়াহুর জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে আগ্রহী হলেও নেতানিয়াহু সরকার লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার চাপের মুখে রয়েছে।
এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে সরকারের ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত না হওয়ায় দেশীয় পর্যায়েও সমালোচনা বাড়ছে। একই সঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে চলমান একাধিক দুর্নীতির মামলাও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোড ফ্ল্যাশেনবার্গের মতে, ইরান ও লেবানন ইস্যুতে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নেতানিয়াহুকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। অন্যদিকে সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনরুদ্ধার করা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ এবং দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন শুধু নেতানিয়াহুর নয়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



