মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প-এর চীন সফরের আগেই গতকাল দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রেখেছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘চারটি লালরেখা’ নির্ধারণ করেছে চীন, যেগুলো কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চারটি ‘নিষিদ্ধ ক্ষেত্র’ হলো-তাইওয়ান প্রশ্ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, রাজনৈতিক ও উন্নয়নপথ এবং চীনের উন্নয়নের অধিকার।
দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়,চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চারটি লালরেখা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
একই সঙ্গে বেইজিং জোর দিয়ে বলেছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং উভয়ের জন্য লাভজনক সহযোগিতাই দুই দেশের সম্পর্কের সঠিক পথ।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথম এই ‘চার লালরেখা’ নীতির কথা উল্লেখ করেন ২০২৪ সালের নভেম্বরে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে।

তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে চীন। ফলে তাইপের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে উত্তপ্ত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র ঝ্যাং হান বুধবার বলেন, চীনের তাইওয়ান অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক সম্পর্কের আমরা কঠোর বিরোধিতা করি। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিরও আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধী। এ অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তিত।
তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান হচ্ছে ‘চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো অবস্থান নেয় না, তবে আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা দিতে বাধ্য ওয়াশিংটন। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দেয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা প্যাকেজ।






