যে কারণে বিশ্বকাপে গ্যালারিতে নেই ইয়ামালের বাবা | চ্যানেল আই অনলাইন

যে কারণে বিশ্বকাপে গ্যালারিতে নেই ইয়ামালের বাবা | চ্যানেল আই অনলাইন

১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন। রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামবে লা রোজারা। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে আলো ছড়াচ্ছেন লামিন ইয়ামাল। টুর্নামেন্টজুড়ে গ্যালারি থেকে পরিবারের সদস্যদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে। মা শিলা ইবানা, সঙ্গী ইনেস গার্সিয়া এবং ছোট ভাই কেইন নিয়মিত মাঠে উপস্থিত থেকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে দেখা যায়নি বাবা মুনির নাসরাউইকে। এবার গ্যালারিতে না থাকার কারণটা জানালেন ইয়ামালের বাবা।

মুনির দলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি, এক সাক্ষাৎকারে কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি স্পেনের ফাইনালে ওঠা ও ছেলের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘স্পেনের এই দুর্দান্ত জয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। আমার ছেলে এবং দলের বাকি খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে, সবার জন্যই খুব আনন্দিত।’

যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার কারণ মুনিরের শারীরিক অসুস্থতা। তিনি মূলত মৃগীরোগে ভুগছেন, দীর্ঘ ভ্রমণ তার স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বলেছেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেস এখান থেকে প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরে। বুঝতেই পারছেন, সেখানে ওর পাশে থাকতে না পারাটা আমার জন্য কতটা কষ্টের। আমি একজন মৃগীরোগী, দিনে আমাকে বেশ কয়েকটি ওষুধ খেতে হয়। যেকোনো সময় খিঁচুনি উঠতে পারে। এখন হয়তো শান্ত আছি, কিন্তু মাঠের উত্তেজনা ও স্নায়ুচাপের কারণে যেকোনো মুহূর্তে শরীর খারাপ হতে পারে। যেকোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

সফরের চেয়ে ছেলের মানসিক প্রশান্তি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বলেছেন, ‘সেখানে গেলে আমি কেবল সবার দুশ্চিন্তাই বাড়াব। তাই ঘরে বসে টেলিভিশনে খেলা দেখা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।’

যুক্তরাষ্ট্রে না গেলেও লামিনের সাথে কথা হয়েছে বাবার। মুনির জানাচ্ছেন, ‘১৯ বছর ২ দিন হয়ে যাওয়ার পরও ছেলে আমার সবসময় মনের ভেতরেই থাকে। সে আমাকে ফোন করে বলেছিল আমাকে নিয়ে গর্বিত। জবাবে তাকে বলেছি, আমি তাকে নিয়ে আরও বেশি গর্বিত। ধন্যবাদ লামিন, এবং ধন্যবাদ তাদের সবাইকে যারা তাকে সবসময় সাহায্য করেছে ও পাশে দাঁড়িয়েছে। পুরো বিশ্বকে অনেক ধন্যবাদ।’

গৌরবময় অবস্থানে আসতে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে সেটিও স্মরণ করেছেন ইয়ামালের বাবা। বলেছেন, ‘জীবনজুড়ে এটি ছিল এক দীর্ঘ পরিশ্রম ও মানসিক চাপের যাত্রা। এখন যখন দেখি সে সব বাধা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে, তখন গর্বে বুক ভরে যায়।’

Scroll to Top