ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)-তে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক চিকিৎসক জার্মানির বার্লিনে দুই সপ্তাহেরও বেশি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বার্লিনের চ্যারিটি ইউনিভার্সিটি মেডিজিন বার্লিন জানায়, ৩৯ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক পিটার স্ট্যাফোর্ড বর্তমানে তার স্বাস্থ্য ভালো আছে এবং তিনি শনিবার (৬ জুন) থেকে কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্ত হয়েছেন।
স্ট্যাফোর্ড একটি খ্রিস্টান মিশনারি সংগঠনের সার্জন হিসেবে ডিআর কঙ্গোতে কাজ করছিলেন। সেখানে অপারেশন করার সময় তিনি বিরল বুন্দিবুগিও ইবোলা স্ট্রেইন-এ আক্রান্ত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৫ মে ওই অঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার আগেই তিনি আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার করেছিলেন।
পরবর্তীতে তাকে বিশেষ বিমানে উগান্ডা থেকে জার্মানিতে আনা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চ্যারিটি – ইউনিভার্সিটি মেডিজিন বার্লিন-এ ভর্তি করা হয়।
তার স্ত্রী ও চার সন্তান, যাদের কোনো উপসর্গ ছিল না কিন্তু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, পরবর্তীতে বার্লিনে এসে আলাদা ওয়ার্ডে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। শনিবার তাদের ওপর থেকে সব বিধিনিষেধও তুলে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসার সময় স্ট্যাফোর্ডকে পরীক্ষামূলক থেরাপি দেওয়া হয়, যা বর্তমানে এই ভাইরাসের চিকিৎসায় গবেষণাধীন।
তিনি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা যথেষ্ট নয়”, তবে একই সঙ্গে কঙ্গোর মানুষের দুরবস্থার কথাও উল্লেখ করেন, যারা এখনও এমন উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন না।
হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক লিফ এরিক স্যান্ডার বলেন, রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা “একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগত সাফল্য”।
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, পূর্ব ডিআর কঙ্গো থেকে শুরু হওয়া এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫২ থেকে বেড়ে ৪৮৮ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৮৬ জন মারা গেছেন।
উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন আক্রান্ত এবং ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডা ডিআর কঙ্গোর পশ্চিম সীমান্তের বড় অংশ আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে সীমান্ত বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সতর্ক করে বলেছে, এই প্রাদুর্ভাব ২০১৪–২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারির মতো বড় আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি সেটিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।


