ব্যয় না কমিয়ে জনগণের ঘাড়ে তেলের দাম চাপানো মানি না—সরকারকে তোপ দেগে বিকল্প প্রস্তাব এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের – DesheBideshe



জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর – জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক ও অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক বোঝা না চাপিয়ে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় পুনর্বিন্যাস এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে বিকল্প পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ক্ষুব্ধ বার্তায় সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন এনসিপি প্রধান।

সরকারের অদক্ষতায় আবারও জনগণের পকেটে কোপ!

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা ও অব্যবস্থাপনার মাশুল বারবার গুণতে হচ্ছে দেশের সাধারণ ১৮ কোটি মানুষকে। সংকট সমাধানের জন্য কোনো টেকসই বা সৃজনশীল উদ্যোগ না নিয়ে সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের কাঁধেই তেলের দাম বৃদ্ধির এই অসহনীয় ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।

‘আমদানিতে ৩২% কর-শুল্ক কমাল না কেন?’

বিশ্ববাজারে চড়া দাম, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিপিসির (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) লোকসানের যে কারণ সরকার দেখাচ্ছে, তার বিরোধিতা করে তিনি বেশ কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন।

নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করে বলেন, সরকার তো নিজেই জ্বালানি তেল আমদানির ওপর ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করে থাকে। এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের দিনে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সাময়িকভাবে হলেও সেই কর ও শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো না কেন?

নতুন পে স্কেল স্থগিত না করে তেলের দাম বৃদ্ধি কেন?

রাষ্ট্রীয় বাজেটের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জানান, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করার হিসাব কষছে। অথচ অন্যদিকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা!

তিনি প্রশ্ন তোলেন—

  • বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এত বিপুল টাকা খরচ করে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কেন এত জরুরি হয়ে পড়ল?
  • দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটানো পর্যন্ত এই পে স্কেল স্থগিত রাখা গেল না কেন?
  • বৈশ্বিক সংকটের দোহাই দিয়ে জনগণের পকেট কাটা সম্ভব হলে, রাষ্ট্রের অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যাবে না কেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে এই পদক্ষেপ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকারের মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা তুলে ধরে বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করতেই নাহিদ ইসলাম এই বিকল্প অর্থনৈতিক বাজেট প্রস্তাব ও নীতিগত প্রশ্নগুলো সামনে এনেছেন। একদিকে সরকারি ব্যয় কাটছাঁটের পরামর্শ এবং অন্যদিকে ৩২% আমদানিশুল্ক হ্রাসের দাবি তুলে তিনি মূলত সাধারণ জনগণ ও মধ্যবিত্তের সেন্টিমেন্টকে সরাসরি স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন।

জনগণের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া জ্বালানি তেলের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা।

এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬




জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নাহিদ ইসলাম কী দাবি করেছেন?

তিনি বর্ধিত জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং জনগণের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে নতুন জ্বালানি তেলের দাম কত?

২১ সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়ের পর ডিজেল ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৫৫ টাকা এবং অকটেন ১৬০ টাকা লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম জ্বালানি আমদানির কর-শুল্ক নিয়ে কী বলেছেন?

তিনি দাবি করেছেন, জ্বালানি তেল আমদানিতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক মিলিয়ে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করা হয় এবং সংকটের সময়ে তা সাময়িক কমানোর প্রশ্ন তুলেছেন।

পে স্কেল নিয়ে তাঁর প্রশ্ন কেন?

নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন পে স্কেলের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হলেও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কেন দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে রয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি কারণ কী?

সরকার আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আমদানি ও পরিবহন ব্যয় এবং বিপিসির আর্থিক চাপের কথা জানিয়েছে।

Scroll to Top