দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে জনজীবন। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও তা গরমের তীব্রতা কমাতে পারছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও অন্তত এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর জুনের মাঝামাঝি সময়ে স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে মিলতে পারে স্বস্তি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক বৃষ্টিপাত হলেও তা তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে না। আগামী সাত দিন তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে গরমের তীব্রতা কমতে পারে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা উচ্চমাত্রায় অবস্থান করছে। প্রখর রোদে পিচঢালা সড়ক থেকে গরম বাতাস বের হচ্ছে, আর খোলা জায়গায় চলাচল করাও হয়ে উঠেছে কষ্টকর। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। অনেকেই বলছেন, দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যারা জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে বাইরে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যেও গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন), হিট এক্সহসশনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলে ছাতা বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং তরল খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। তাপপ্রবাহের এই দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



