সরেজমিনে দেখা যায়, লবণ মাঠের আশপাশে এখনো প্রায় এক হাজার একর জমি খালি পড়ে আছে। সেখানে শত শত বাইন ও কেওড়াগাছের গোড়া দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রতি এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম অংশে সামান্য কিছু প্যারাবন টিকে থাকলেও সেখানেও দখলের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় লবণশ্রমিক রাহমত উল্লাহ বলেন, প্রতিটি চিংড়িঘেরের আয়তন ১০০ থেকে ১৫০ কানি পর্যন্ত। সোনাদিয়ার লবণচাষি আনোয়ার হোসেন ও আবদুল কাদের বলেন, এক দশক আগেও দ্বীপে ১০ হাজার একরের বেশি ঘন প্যারাবন ছিল। শত শত মানুষ মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু গত চার বছরে সাত হাজার একরের বেশি বন ধ্বংস করে সেখানে লবণ ও চিংড়ি চাষ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মকবুল আহমেদ বলেন, ‘প্যারাবন উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের আঘাত থেকে এটি সোনাদিয়া ও মহেশখালীকে দীর্ঘদিন রক্ষা করেছে। বন না থাকায় ভবিষ্যতে বড় কোনো ঘূর্ণিঝড়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
একটি বেসরকারি সংস্থার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক আবদুল কাইয়ুম বলেন, মাত্র পাঁচ বছর আগে তিনি সোনাদিয়ায় প্রায় আট হাজার একরের ঘন প্যারাবন দেখেছিলেন। এখন সেখানে চোখে পড়ে শুধু চিংড়িঘের ও লবণ মাঠ।


