গবেষণার স্বীকৃতি, দেশের জন্য সম্ভাবনা
সাত বিজ্ঞানীর গবেষণার বিষয় আলাদা। কিন্তু তাঁদের কাজগুলোর দিকে একসঙ্গে তাকালে বাংলাদেশের সামনে থাকা কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিরাপদ পানি, খাদ্যনিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধী ফসল, নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, প্লাস্টিক দূষণ, চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। সবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত।
এই গবেষণাগুলোর সব ফল যে আগামীকালই বাজারে পাওয়া যাবে বা দেশের সব সমস্যার সমাধান করবে, তা নয়। মৌলিক গবেষণার ফল বাস্তবে কাজে লাগাতে সময়, অর্থ, গবেষণাগার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পরীক্ষাগারে নতুন কোনো জৈব সক্রিয় যৌগ শনাক্ত হলেই সেটি ওষুধ হয়ে যায় না। পাট থেকে তৈরি নতুন উপাদান উদ্ভাবন করলেই প্লাস্টিকের ব্যবহার রাতারাতি বন্ধ হবে না। আবার ধানের রোগ প্রতিরোধী নতুন বৈশিষ্ট্য আবিষ্কারের পর তা আগামীকালই মাঠে বুনে দেওয়া যাবে না। এসবের ফল আসবে ধীরে ধীরে।
তবু এসব গবেষণার গুরুত্ব কমে না, বরং এগুলো দেখায়, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা কেবল দেশের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন না; তাঁদের গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনেও আলোচিত হচ্ছে। একই বছরে সাতজন বিজ্ঞানীর টিডব্লিউএএস ফেলো নির্বাচন, কামরুন নাহারের আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং ফিরদৌসী কাদরীর কাউন্সিল সদস্য হওয়া সেই স্বীকৃতিরই অংশ।


