বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের আশাবাদ তৈরি হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় আজ সোমবার (২৭ জুলাই) তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়।

তেলের দাম

আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ২০ ডলার বা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৫৮ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের এক পর্যায়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। খবর রয়টার্সের।

অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ দশমিক ৮০ ডলার বা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়ায়।

গত তিন সপ্তাহ ধরে টানা বাড়ার পর উভয় সূচকই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার স্পর্শ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সময় দিতেই ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইএনজি এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকায় বাজারে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। তেলের দামের পতন ইতিবাচক কোনো অগ্রগতির জন্য বাজারের প্রবল প্রত্যাশাকেই প্রতিফলিত করছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।

এমএসটি মারকুইয়ের জ্বালানি বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়লেও তা সীমিত থাকবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনেক শিপিং কোম্পানি সেখানে পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু করবে না।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কিছুটা কমেছে। যদিও একটি চীনা সুপারট্যাংকার ওই নৌপথ ব্যবহার করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

ইউওবি-এর বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবার মৃত্যু

এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে তারা রাশিয়ার একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Scroll to Top