মিয়ানমারে বেসামরিকদের ওপর হামলা বেড়েছে | চ্যানেল আই অনলাইন

মিয়ানমারে বেসামরিকদের ওপর হামলা বেড়েছে | চ্যানেল আই অনলাইন

মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর থেকে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি)।

একই সময়ে দেশটিকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকাশিত এসিএলইডির এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর থেকে বেসামরিক জনগণের ওপর দমন-পীড়ন এবং বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে।

নতুন সেনাপ্রধান ইয়ে উইন উ দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে দুই থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান নিয়ে একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানোর কৌশল গ্রহণ করেছে।

যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করেননি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি-র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মিন অং হ্লাইং তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইয়ি উইন উকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে সীমান্তবর্তী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে বিরল খনিজসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথসংলগ্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এসিএলইডির মতে, মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধান থেকে বেসামরিক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ফলে বেসামরিক মানুষের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনা খুবই কম।

এসিএলইডি জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তারা এক ডজনেরও বেশি গণহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এতে ৪৫০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের প্রায় ৪০ শতাংশই দেশটির মধ্যাঞ্চলের আনিয়ার অঞ্চলের বাসিন্দা।

মে মাসে বাগানের প্রাচীন মন্দির এলাকার বিপরীতে অবস্থিত মিয়িত চে টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর শত শত সদস্য অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪০ জনকে হত্যা করে বলে স্থানীয় তিন বাসিন্দা রয়টার্সকে জানান।

৩৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ি নাউং বলেন, ‘প্রায় ৭০০ সেনা শহরে ঢুকে মানুষের জিনিসপত্র লুট করে। এরপর তাদের মারধর করে হত্যা করে।’

তবে ওই ঘটনার বর্ণনা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। যদিও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসিএলইডির তথ্যভাণ্ডারে ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে।

এসিএলইডির ভাষ্য, ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীর কৌশলে কিছু পরিবর্তন এলেও বেসামরিক মানুষের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা কমেনি, বরং তা নতুন রূপে অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মিন অং হ্লাইং ভারত ও চীন সফর করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে পুনরায় যোগাযোগও শুরু হয়েছে।

আগামী ৬ থেকে ৭ আগস্ট তিনি থাইল্যান্ড সফর করবেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Scroll to Top