
চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি বিমান কোনো দেশে অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি, ল্যান্ডিং সেবা বা টিকিট বিক্রির মতো সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানি এয়ারলাইনসের বিমান অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি বা ল্যান্ডিং সেবা দেওয়া যাবে না এবং টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। এসব সেবা অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এই হুমকি শুধু ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নয়, বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ও টিকিট বিক্রয়কারী সংস্থার ওপরও প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক চলাচল কার্যত কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পর ইরাক ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি। জর্জিয়াও ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সময়ে ইরানি এয়ারলাইন মহান এয়ার জানিয়েছে, তুরস্ক সরকারের অনুরোধে দেশটিতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে বেসেন্টের অর্থনৈতিক বৈঠকের পর এই হুঁশিয়ারি সামনে এসেছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার চীন হওয়ায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের বিমান পরিবহন খাতকে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান পরিবহন খাত নতুন উড়োজাহাজ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা সংগ্রহে সমস্যায় রয়েছে। নতুন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইনসের কার্যক্রম আরও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন বিমান নিষেধাজ্ঞাকে সেই চাপেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…