ফুটবল বিশ্বকাপ মানে কাপ জেতার আনন্দই শুধু নয়। বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবল খেলায় আরও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। খেলোয়াড়ের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পরিবর্তন এসেছে পোশাকে। বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে ফুটবল প্রস্তুতশৈলীতেও। চামড়ার আচ্ছাদন, রাবারের ব্লাডার আর ফিতা দিয়ে বাঁধা ফুটবল হয়ে উঠেছে সিনথেটিক রাবার, পানিনিরোধী, বাতাসের গতিময়তা নিয়ন্ত্রক। আধুনিক প্রযুক্তির ফুটবল আল-রিহলা কিংবা ২০২৬ এর অফিসিয়াল বল ট্রাইয়েন্ডা যার দৃষ্টান্ত।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের পথচলায় আধুনিক প্রযুক্তি, গতিময়তা এবং যুগের চাহিদা মিটিয়ে ফুটবল খেলার মানে যে অগ্রগতি, তার সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে বিশ্বকাপ আসরে ব্যবহার করা অফিসিয়াল বল। ১৯৩০ সালে প্রথম আসরের দুটি বল টাইয়েন্টো ও টি-মডেল থেকে এবারের আসরের ট্রাইয়েন্ডার আবির্ভাব সেই ধারারই অংশ।
১৯৩০ সালে প্রথম আসরের স্বাগতিক উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মধ্যেকার ফাইনালের আগে ঘটেছিল চমকপ্রদ ঘটনা। কোন বল ব্যবহার হবে তা নিয়ে মতবিরোধ তৈরী হয়। ফাইনালের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার তৈরি টি-মডেল বল ব্যবহার করা হয়। প্রথমার্ধে আর্জেন্টাইনরা ২-১ গোলে এগিয়ে থাকে। শর্তানুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবহার করা হয় উরুগুয়ের তৈরি বল টাইয়েন্টো। সেই বল ব্যবহার করে উরুগুয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জেতে প্রথম আয়োজিত বিশ্বকাপ।
১৯৩০ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত আয়োজক দেশই ম্যাচের বল সরবরাহ করতো। মাঝে ১৯৫০ সালে আয়োজক ব্রাজিল প্রথম লেসমুক্ত অফিসিয়াল বল ডুপলো টি ব্যবহার করে অগ্রগতির সূচনা আনে।
১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয় অ্যাডিডাস জামানা। বিশ্বখ্যাত জার্মান ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারি অ্যাডিডাস প্রতি আসরেই যুক্ত করছে আধুনিক প্রযুক্তি। এভাবে মাঠে গড়িয়েছে টেলেস্টার, ট্যাঙ্গো, ফেভারনোভা, জাবুলানি, ব্রাজুকা, আল-রিহলা হয়ে ট্রায়োন্ডা।





