বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বুধবার (২৪ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং সফল হলে পারিশ্রমিক ভিত্তিতে তারা কাজ করবে।

প্রথম ধাপে এস আলম, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি সহায়তা দেবে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে গেছে বলে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থপাচার অত্যন্ত গোপনে ও জটিল উপায়ে হওয়ায় প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।

এদিকে দেশের তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি দিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুনঃ

অন্যদিকে আগামী অর্থবছর থেকে মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা মূল্য সংযোজন করের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব স্থগিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

Scroll to Top