বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ১০ বিদ্রোহী এমপির গোপন বৈঠক | চ্যানেল আই অনলাইন

বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ১০ বিদ্রোহী এমপির গোপন বৈঠক | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্তত ১০ জন বিদ্রোহী সাংসদ দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে। ঘটনাচক্রে, একই সময়ে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে মমতা ব্যানার্জী বিজেপি বিরোধী কৌশল নির্ধারণে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালিপদ সোরেন, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা সরকার। এছাড়া দল থেকে পদত্যাগ করা সুখেন্দু শেখর রায় এবং বিধায়ক আখরুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্যে সমর্থন জোগাড় করছিলেন। এ বিষয়েই দিল্লির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছিল, তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৪১ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দলবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

একই সঙ্গে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ঋতব্রত ব্যানার্জী-এর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষে দলের ৮০ জনের বেশি বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন সমর্থন দিয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। তারা একাধিক দলীয় কর্মসূচি বর্জন করেছেন।

দলের ভেতরে অসন্তোষের আরেকটি প্রতীকী প্রকাশও সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করলেও এখন কেউ কেউ তাকে নাম ধরে ‘মমতা’ বলেই উল্লেখ করছেন বলে সূত্রের দাবি।

সূত্র জানায়, এমন মন্তব্য করেছেন ক্রীড়া জগতের পটভূমি থেকে আসা এক সাংসদ, যদিও তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার এক সাংসদ, যিনি বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি, গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। এটিকেও নীরব প্রতিবাদের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক অভিনেতা-থেকে-সাংসদও সম্প্রতি দিল্লিতে গেছেন এবং ধীরে ধীরে দল থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন। উত্তরবঙ্গের আরও দুই সাংসদের নামও বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে আলোচনায় এসেছে।

এনডিটিভির সূত্রমতে, তৃণমূলের এক জ্যেষ্ঠ সাংসদ মুম্বাই থেকে কলকাতায় ফেরার পথে পরিকল্পনাবহির্ভূতভাবে দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। ওই সময় তিনি গোপনে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংসদ কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলার প্রতিনিধি বলেও জানা গেছে।

দিল্লির এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।

Scroll to Top