১৫ বছর পর বাংলাদেশে সাদা বলের সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। মিরপুরে তিন ম্যাচের ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে দলটি। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে অজিরা। হারের স্মৃতি নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে তারা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে বেশ সমীহ করছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিশ। তার মতে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জিং। তাই রোমাঞ্চকর সিরিজের অপেক্ষা করছেন তিনি।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। আগেরদিন সংবাদ সম্মলনে আসেন চলতি সিরিজে অধিনায়কত্ব পাওয়া জশ ইংলিশ। সেখানে জানান এমন।
বলেছেন, ‘এটি খুবই রোমাঞ্চকর। আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি খেলি না। বিশেষ করে এখানে, বাংলাদেশে তো আরও না। এখানে আমার এটা প্রথম সফর। দলের আরও অনেকেরই এটি প্রথমবার। সিরিজটি নিয়ে আমরা দারুণ রোমাঞ্চিত। এখনো একাদশ ঘোষণা করিনি। আজ উইকেট দেখবো এবং আগামীকাল আপনারা সেটি (দল) দেখতে পাবেন।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দল অনেক খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেয়া দিয়েছে এবং মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড সিরিজের ঠিক আগেই ছিটকে গেছেন। বাংলাদেশকে হারানো অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং কিনা- তার জবাবে টাইগারদের সামর্থ্যের প্রশংসাই করেন ইংলিশ।
বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তারা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। স্বাভাবিকভাবেই আপনারা নিজেদের ঘরের মাঠের কন্ডিশনে খেলছেন। আমাদের অনেকেই আগে এখানে আসেনি, তবে আমাদের যেটা আছে তা হলো নিজেদের ওপর অগাধ বিশ্বাস। আমার মনে হয় এটি একটি দারুণ সিরিজ হতে যাচ্ছে।’
ট্র্যাভিস হেড এবং মিচেল মার্শ দলে না থাকাকে কিছু একটা হারানোর সঙ্গে তুলনা করেন ইংলিশ। তাদের অনুপস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও আখ্যা দেন। যদিও বাকি ক্রিকেটারদের জন্য তিনি এটিকে সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
বলেছেন, ‘তারা এখানে নেই, (বাস্তবতা) পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের সদ্য সমাপ্ত সিরিজের মতোই। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় এই ধরনের কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে। স্বভাবতই সামনে একটি বিশ্বকাপও রয়েছে। তাই এর আগে ভিন্ন কম্বিনেশন এবং কয়েকজন ভিন্ন খেলোয়াড়কে দেখে নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই বিশ্বমানের পেসার তৈরি করলেও সাদা বলের ক্রিকেটে দলটি এই মুহূর্তে একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন সিরিজে অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের পেসাররা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে সফরকারী অধিনায়ক নিজ দলের পেসারদের উপর আস্থা রাখছেন।
‘সিরিজটি খেলার পরেই আমরা তা জানতে পারবো বলে আমার ধারণা। অবশ্যই আমাদের স্কোয়াড থেকে বড় কয়েকজন খেলোয়াড় বাইরে আছে। তবে যারা গত কয়েক বছর ধরে প্রচুর খেলছে যেমন, নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট, বেন ডারউইস- এই স্তরে তাদের এখন বেশ ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারাও দারুণ রোমাঞ্চকর এবং এই সিরিজে তারা কী করতে পারে তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’
পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে অজি অধিনায়ক বলেন, ‘যে শিক্ষাগুলো পেয়েছি তা হলো কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়া। বাংলাদেশে আমরা ভিন্ন কন্ডিশন পাবো। তবে মূল বিষয় হলো নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে একদম পরিষ্কার থাকা। আপনি কীভাবে খেলতে চান তা জানা এবং তারপর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি বজায় রাখা। যারা সফল হয়েছে তারা এটি বেশ ভালোভাবেই করেছে, আমরা আরও দীর্ঘ সময় ধরে এটি করতে চাই এবং বড় স্কোর গড়তে চাই।’
পেস-বান্ধব উইকেট আশা করছেন কিনা- জানতে চাইলে ইংলিশ বলেন, ‘এখানে নিউজিল্যান্ডের যে সিরিজটি হয়েছিল তা আমরা দেখেছি। উইকেটে কিছুটা ঘাস ছিল বলে মনে হয়েছিল। নতুন বল কিছুটা মুভ করছিল এবং উইকেটটি স্পিন-নির্ভর হওয়ার চেয়ে সিম-বান্ধব বেশি ছিল। আমরা বিষয়টি মাথায় রাখব, তবে আমরা যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত। গতকাল সংক্ষেপে একটু (উইকেট) দেখেছিলাম। তবে খুঁটিয়ে দেখা হয়নি, তাই আজ আবার দেখবো।’
পেসার নাথান এলিসের বৈচিত্র্যময় বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য হতে পারে চ্যালেঞ্জিং। সিরিজে তার অজিদের জন্য এক্স-ফ্যাক্টর হয়ে ওঠার সম্ভাবনার পালে ইংলিশ হাওয়াও লাগালেন। বলেছেন, ‘গত কয়েকবছরে সে দারুণভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং তাকে যে ভূমিকাই দিয়েছি, তা লুফে নিয়েছে। অবশ্যই তার ঝুলিতে সব ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে সে অত্যন্ত দক্ষ এবং খেলার তিনটি ফেজেই (শুরুতে, মাঝে ও শেষে) বল করতে পারে। আমি আশা করি এই সিরিজে সে বড় ভূমিকা পালন করবে।’
বিশ্ব ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে। অন্যান্য খেলাধুলা নিয়ে সবারই আকর্ষণটা তাই কম থাকবে। তবে ইংলিশের বিশ্বাস, রোমাঞ্চকর সিরিজই মাঠে গড়াবে। বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটি খুবই রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে। আগে যেমনটা বললাম, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশ খুব বেশি মুখোমুখি হয় না। আমাদের ছেলেরা দারুণ উত্তেজিত এবং এই কন্ডিশনে মাঠে নেমে খেলার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’



