চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তামিল চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কে. ভাগ্যরাজ। হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তার শেষকৃত্যের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। কে. ভাগ্যরাজের স্ত্রী অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভাগ্যরাজ। তাদের এক ছেলে অভিনেতা শান্তনু ভাগ্যরাজ এবং এক মেয়ে সারন্যা ভাগ্যরাজ। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও তিনি অভিনেত্রী-রাজনীতিক খুশবু সুন্দরের মেয়ে গোয়ার বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
তামিলনাড়ুর ইরোড জেলায় জন্ম নেয়া ভাগ্যরাজের পুরো নাম কৃষ্ণস্বামী ভাগ্যরাজ। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খ্যাতিমান নির্মাতা ভারতীরাজার সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরে নিজস্ব নির্মাণশৈলী ও চিত্রনাট্যের মাধ্যমে তামিল চলচ্চিত্রে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন। ১৯৭৭ সালে ‘১৬ ভায়াথিনিলে’ এবং ১৯৭৮ সালে ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’ সিনেমাতে ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে ‘সুভারিল্লাধা চিত্রাঙ্গল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই সময়ে ‘পুধিয়া ভার্পুগাল’ সিনেমায় প্রথমবার নায়ক হিসেবেও অভিনয় করেন।
মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প, বাস্তবধর্মী চরিত্র এবং শক্তিশালী চিত্রনাট্যের জন্য তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিলেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তার নির্মিত পারিবারিক নাটক তামিল সিনেমায় নতুন ধারা তৈরি করে। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আন্ধা ৭ নাটকাল (১৯৮১), ‘মুন্ধানাই মুদিচু’ (১৯৮৩), ‘থুরাল নিন্নু পোচু’ (১৯৮২) এবং ‘ইন্দ্রু পোই নালাই ভা’ (১৯৮১)।
ক্যারিয়ারে তিনি ২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন এবং ৭৫টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন। তামিল সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের ছাপ রেখেছিলেন কে. ভাগ্যরাজ। ১৯৮৬ সালে তিনি অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘আখরি রাস্তা’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। সিনেমাতে অমিতাভ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এ ছাড়া জয়া প্রদা, শ্রীদেবী ও অনুপম খের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। ভাগ্যরাজ নিজেও সিনেমাটিতে একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। তার মৃত্যুতে তামিল চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



