র্যাপার ম্যাকলমোরকে এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর ঘটতে থাকে এই ঘটনা

ফিলিস্তিনের পক্ষে মন্তব্য করায় র্যাপার ম্যাকলমোরকে এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর একের পর এক সহশিল্পী সফর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে অন্তত তিনজন সহযোগী শিল্পী এবং এড শিরানের নিজস্ব ব্যান্ড সফরটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিজের নয় বলে জানিয়েছেন এড শিরান। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ এই পপ তারকা জানান, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ। ম্যাকলমোরের সঙ্গে তার চুক্তিও ছিল আয়োজক প্রতিষ্ঠানের, শিরানের সঙ্গে নয়।
এর আগে চলতি মাসে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন ম্যাকলমোর। সেখানে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি তিনি পরিবেশন করেন তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্ডস হল’।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গানটি লিখেছিলেন ম্যাকলমোর। গানটির নাম নেওয়া হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের নাম থেকে, যিনি গাজায় নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত আগস্টে স্বীকার করে, হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে তাদের সেনারা গুলি চালিয়েছিল এবং এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মঞ্চে ম্যাকলমোর বলেছিলেন, এই সফরে যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এমন বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলা।
তার এই বক্তব্যের পর ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সমালোচনা শুরু করে। ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে একটি আবেদনও শুরু করে।
এদিকে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের প্রতিষ্ঠান গিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোরের পরিবেশনার বিরোধিতা করে। সেখানে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর এড শিরানের অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোরের পারফর্ম করার কথা ছিল। পরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, একাধিক ভেন্যু ম্যাকলমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আপত্তি জানানোয় তাকে বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ম্যাকলমোর ১৪ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জানান, এড শিরান ও তার দল তাকে ‘লুপ ট্যুর’ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিরানকে নিজের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে কঠিন আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গিলেট স্টেডিয়ামের মালিকপক্ষ তার অংশগ্রহণে আপত্তি জানায় এবং অন্য স্টেডিয়াম মালিকদেরও একই ধরনের অবস্থান নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পরদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এড শিরান। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মানুষের দুর্ভোগ ও যন্ত্রণা তাকে মর্মাহত করে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ থাকার পছন্দের কথাও জানান তিনি।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে শিরান বলেন, ‘ম্যাকলমোরকে সফর থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত আয়োজকের, আমার নয়।’ তিনি আরও বলেন, দর্শকদের করা পরিকল্পনা, সফরের কর্মী এবং অন্য সহযোগী শিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের জীবিকার কথা বিবেচনা করে তিনি সফর থেকে সরে দাঁড়াননি।
তবে শিরানের এই ব্যাখ্যার পরও সফর থেকে একে একে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আসতে থাকে শিল্পীদের।
শিরানের নিজস্ব ব্যান্ড বেওগা জানায়, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তারা ‘লুপ ট্যুর’ থেকে সরে যাচ্ছে। ব্যান্ডটি ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থান জানায়। ব্যান্ডটির সদস্যরা আয়ারল্যান্ডের শিল্পীদের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।
আইরিশ গায়ক ও গীতিকার অ্যারন রোও-ও সফরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে আর থাকছেন না বলে জানান। শিরানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। তবে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন ও শিশু হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা শিল্পীদের কণ্ঠ রোধের ঘটনায় তিনি নীরব থাকতে চান না বলেও জানান।
ডেনিশ পপ ব্যান্ড লুকাস গ্রাহামও মঙ্গলবার শিরানের সফর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এ ছাড়া মার্কিন গায়ক ও গীতিকার ফিনিয়াস দক্ষিণ আমেরিকার অংশে শিরানের সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার সময় শিল্পীদের নীরব করে দেওয়া উচিত নয়। তিনি ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থনের কথাও জানান।
তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত ‘লুপ ট্যুর’-এর ওয়েবসাইটে লুকাস গ্রাহাম ও অ্যারন রোওয়ের নাম সহযোগী শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…