ফুটবল বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ইভেন্টের মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব তুলেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। ফিফার এমন পরিকল্পনার পর বৃহস্পতিবার জরুরি সভায় বসেছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সভায় উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবে সম্মত হলে ফিফার আওতাধীন ২১১টি সদস্য ফুটবল সংস্থাকে ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আর উয়েফা জরুরি সভা শেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘উয়েফা এবং তাদের সহযোগী দেশগুলো ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে না। উয়েফা এবং এর ৫৫টি সদস্য রাষ্ট্র একযোগে ও দৃঢ়ভাবে ফিফার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে। বিশ্বকাপের মালিকানা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বকাপকে কখনোই বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।’
বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রীড়া ঐতিহ্য। প্রতিটি মহাদেশের খেলোয়াড়, জাতীয় দল এবং সমর্থকদের হাত ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। এর কোন অংশই কখনও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
ফিফা নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে উয়েফা আরও জানায়, ‘ফুটবলের জন্য এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব গোপনে তৈরি করা এবং দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সাথে কোনধরনের আলোচনা ছাড়াই তা অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপ। এটি কেবল নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতাই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার অর্পিত দায়িত্বের প্রতি একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।’
‘উয়েফার মতে, এটি কোন গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদস্তিমূলক শাসন, যা বিশ্ব ফুটবলের দায়িত্বে থাকা কোন সংস্থার জন্য একেবারেই অনভিপ্রেত।’
উল্লেখ্য, ফিফার নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে তার অধীনে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব হস্তান্তর করতে চায় সংস্থাটি। পরবর্তীতে বেসরকারি বা বহিরাগত বিনিয়োগকারীরা ওই প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বা মালিকানার অংশ কিনতে পারবে।




