মুক্তির আগে ট্রেলার প্রকাশের পর সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম আলোচনা হয়নি। কেউ বলেছেন, ট্রেলারটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আবার কেউ মনে করেছেন ক্রিস্টোফার নোলানের আগের চলচ্চিত্রগুলোর মতো রহস্য কিংবা চমক এতে নেই। তবে মুক্তির পর সব সমালোচনাকে পেছনে ফেলে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে ‘দ্য অডিসি’।
ট্রেলার প্রকাশের পর সিনেমাটির সম্ভাব্য সফলতা আশঙ্কা থাকলেও বক্স অফিসের সফলতা বলে দেয়, পৃথিবীব্যাপী দর্শক সিনেমাটি কতোটা গ্রহণ করেছে! চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে এর পেছনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
প্রথমত, পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান এখন কেবল একজন নির্মাতা নন, তিনি নিজেই একটি আস্থার নাম। তাঁর নির্মিত ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ও ‘ওপেনহাইমার’-এর মতো চলচ্চিত্র বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে আলাদা প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তাই তাঁর নতুন কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেই তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
দ্বিতীয়ত, ‘দ্য অডিসি’-র গল্পের ভিত্তি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত মহাকাব্য। প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের অমর রচনাকে আধুনিক চলচ্চিত্রের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। যুদ্ধ, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, রহস্যময় দ্বীপ, পৌরাণিক প্রাণী এবং এক যোদ্ধার ঘরে ফেরার সংগ্রাম সব মিলিয়ে দর্শক এক ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
চলচ্চিত্রটির আরেকটি বড় শক্তি ছিল এর নির্মাণশৈলী। বিশাল পরিসরে ধারণ করা দৃশ্য, বাস্তব লোকেশনে চিত্রায়ণ, উন্নত চিত্রগ্রহণ এবং শক্তিশালী শব্দ পরিকল্পনা বড় পর্দায় এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। অনেক দর্শকের মতে, এটি এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু গল্পের জন্য নয়, বরং বড় পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতার জন্যও স্মরণীয়।
অভিনয় শিল্পীদের দক্ষ অভিনয়ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি চরিত্রকে যত্নসহকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা গল্পের আবেগ ও নাটকীয়তাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
তবে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় সাফল্যের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে। মুক্তির পর যারা চলচ্চিত্রটি দেখেছেন, তাঁদের প্রশংসা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ইতিবাচক প্রচারই আরও বেশি মানুষকে প্রেক্ষাগৃহে টেনে নিয়ে যায়। ফলে দিন যত গড়িয়েছে, দর্শকের আগ্রহও তত বেড়েছে।
সমালোচকরাও চলচ্চিত্রটির নির্মাণ, চিত্রগ্রহণ, সংগীত এবং গল্প বলার ধরনকে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে একটি কালজয়ী গল্পকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিই ‘দ্য অডিসি’-কে অন্য অনেক চলচ্চিত্র থেকে আলাদা করেছে।
সব মিলিয়ে, ‘দ্য অডিসি’-র সাফল্য প্রমাণ করেছে শক্তিশালী গল্প, দক্ষ নির্মাণ, আবেগঘন উপস্থাপনা এবং দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করা গেলে একটি চলচ্চিত্র সহজেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে। ট্রেলার নিয়ে যত বিতর্কই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ভালোবাসাই নির্ধারণ করেছে ‘দ্য অডিসি’-র প্রকৃত সাফল্য।




