এভাবেই শেষ হলো সাক্ষাৎ। কেন ডেকেছেন, কিছুই বুঝতে পারলাম না। সালাম দিয়ে বঙ্গভবন ত্যাগ করি। এর প্রায় দুই মাস পর শামসুল হুদা চৌধুরী আমাকে ডাকলেন। গেলাম তাঁর কাছে। ১৯৫১ সাল থেকেই তাঁকে চিনি। তাঁকে হুদা ভাই বলে ডাকতাম। দেখা হতেই হুদা ভাই হেসে হেসে বললেন, রাষ্ট্রপতি সাহেব তোকে তাঁর প্রেস সচিব বানাতে চান। আমি বললাম, প্রেস সচিবের জন্য তো দরখাস্ত করিনি। তিনি বললেন, না, রাষ্ট্রপতি সাহেবের প্রেস সচিব দরকার। যা–ই হোক, দুই দফায় এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার পর জয়েন্ট সেক্রেটারি স্ট্যাটাসে ৩ হাজার টাকা বেতনে প্রেস সচিব হতে রাজি হলাম। তখন সচিবদের বেতন ছিল ৩ হাজার টাকা। আমাকে বেতন হিসেবে আড়াই হাজার টাকা এবং অন্যান্য অ্যালাউন্স বাবদ ৫০০ টাকা দেওয়া হলো। আর একটি বাড়ি ও একটি গাড়ির সুবিধা।
সব ঠিক হওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ১২ কিংবা ১৩ নভেম্বর হবে, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাই। সালাম দিয়ে দেখা হতেই বুলেটের মতো প্রশ্ন—কবে জয়েন করছেন? স্যার, কবে মানে? তিনি বললেন, না, আমার অত সময় নেই। আমি বললাম, ছোটখাটো একটি ব্যবসা আছে। সেটি গুছিয়ে আসতে কয়েকটা দিন লাগবে। বললেন, না অত সময় নেই। ১ ডিসেম্বর থেকে জয়েন করুন। আমি আজই বলে দিচ্ছি, নোটিফিকেশন হয়ে যাবে। এভাবেই ১৯৭৭ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে প্রেস সচিব হিসেবে যোগ দিই। কাছাকাছি গিয়ে ভদ্রলোক মানুষটাকে দেখলাম—একজন অমায়িক মানুষ। তাঁর ব্যবহার, তাঁর কাজ কোনো—কিছুরই তুলনা হয় না।
আমি প্রেস সচিবের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরপরই একটি বিদেশ সফর এল। ঢাকা-কাঠমান্ডু, কাঠমান্ডু-দিল্লি, তারপর ঢাকায় এসে আবার পাকিস্তান। সফরে গিয়ে প্রচণ্ড জ্বরে পড়ে গেলাম। রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. নওয়াব আলী জ্বর কমার ট্যাবলেট দিলেন। কাঠমান্ডুতে কোনোভাবে কাটিয়ে দিল্লি গেলাম। জ্বর আরও বেড়ে গেল। ফলে আজমির শরিফে যেতে পারলাম না, অশোকা হোটেলেই রয়ে গেলাম।
দিল্লি সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরছি এফ-২৭ ফকার বিমানে করে। রাষ্ট্রপতি যে আসনে বসেছেন, তার থেকে কয়েকটি আসন পরেই আমি বসেছি। কোনাকুনিভাবে রাষ্ট্রপতি আমাকে দেখতে পান। আমার সিটের পাশে একটি সিট খালি। আমি আড়ষ্ট হয়ে বসে আছি। বিমানের পার্সার এসে জুস খেতে দিলেন। আমি জুস খাচ্ছি। এ সময় রাষ্ট্রপতি জিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কী প্রেস সেক্রেটারি সাহেব, আরও স্ট্রং কিছু খান।’ এভাবে তিনি হিউমারও করতেন।



