রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েল প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক—উভয় ধরনের সরকারই ধারাবাহিকভাবে বলে এসেছে যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পূর্বশর্ত হলো ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। পররাষ্ট্রনীতির অনেক বিষয়ে সরকারগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও এই প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
জানুয়ারিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আবার ইসলামাবাদের অবস্থান তুলে ধরেন। এই বোর্ডের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধপরবর্তী গাজার তদারকি করা। আন্দরাবি বলেন, ‘কোন দেশ আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে বা দেবে না, তা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা বিষয়টিকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি কেবল কূটনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার দ্বারাও নির্ধারিত। ইসলামাবাদভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল ফর রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মোহাম্মদ ইসরার মাদানি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই–কে বলেন, ‘আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর বিপরীতে পাকিস্তান একটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত হয়, যেখানে জনমত, ইসলামপন্থী দল, জিহাদি গোষ্ঠী, সংসদ, নাগরিক সমাজ এবং সক্রিয় গণমাধ্যম—সবাই পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিতর্কে প্রভাব বিস্তার করে।’


