তেল কিনতে দেখাতে হবে আগের রসিদ, নতুন নির্দেশনা বিপিসির

তেল কিনতে দেখাতে হবে আগের রসিদ, নতুন নির্দেশনা বিপিসির

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ঢাকাসহ সারাদেশের পাম্পগুলোয় ভিড় বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবার যানবাহনে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে রশিদ দেয়ার পাশাপাশি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও আগের রসিদ দেখানো ছাড়া মিলবে না তেল।

তেল কিনতে দেখাতে হবে আগের রসিদ, নতুন নির্দেশনা বিপিসির

ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন চালকরা এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল নিতে পারবেন না।

বিপিসি’র নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে এবং প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডিলাররা বরাদ্দ ও ভোক্তার ক্রয় রসিদ গ্রহণ করে তেল সরবরাহ করবে। আর ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ‍্য ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল গ্রহণ করবে। তবে ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহের আগে বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের তথ‍্য পর্যালোচনা করে সরবরাহ করা হবে এবং কোনো অবস্থায় বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে বিপিসি।

নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেয়া যাবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেয়া যাবে ১০ লিটার তেল। অন্যদিকে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। এছাড়া পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার নিতে পারবে নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দিনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা বা গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলারেরা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কিছু কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এই অবস্থায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম বা সূচি নির্ধারিত রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা থেকে সারাদেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগণ বা ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুত) গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, মধ‍্যপ্রাচ‍্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে।

Scroll to Top