
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর – দেশে কোনোভাবেই থমকে দাঁড়াচ্ছে না এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক রূপান্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৫ জন। একই সময়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য শয্যাশায়ী হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন নতুন রোগী। তথ্য বলছে, গত সাত দিনেই প্রাণ গেছে ৩৩ জনের, যা সারা দেশেই নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন থেকে মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গু সংক্রমণের এই বাস্তব চিত্র জানা গেছে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় ভয়াবহ চিত্র
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।
- চলতি বছরে মোট মৃত্যু: ১৭৬ জন
- সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে: ৭৯ জন
- আগস্ট মাসে: ৪৩ জন
- জুলাই মাসে: ৩৬ জন
- জুন মাসে: ১৩ জন
- মে মাসে: ১ জন
- জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে: ৪ জন (প্রতি মাসে ২ জন করে)
হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড় ও বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি
বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১,৪৮৪ জন নতুন আক্রান্ত ভর্তি হওয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৪০০ জনে। তবে আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থতার হারও আশাব্যঞ্জক; গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫১৩ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৯২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার বিভাগীয় রোগী ভর্তির চিত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় ঢাকা বিভাগই এখনো ডেঙ্গু বিস্তারের মূল কেন্দ্র:
- ঢাকা বিভাগে ৬২৪ জন
- খুলনা বিভাগে| ২৫২ জন
- বরিশাল বিভাগে ২২১ জন
- চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন
- রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন
- ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন
- রংপুর বিভাগে ৩৫ জন
- সিলেট বিভাগে| ৪ জন
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে জ্বর অনুভব হওয়ার সাথে সাথেই প্রাথমিক পর্যায়ে ডেঙ্গুর এনএস১ (NS1) পরীক্ষা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। এছাড়া জমে থাকা স্বচ্ছ পানির পাত্র পরিষ্কার করা, বাসাবাড়িতে সঠিক মশা প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দিনে বা রাতে ঘুমানোর ক্ষেত্রে মশারি ব্যবহারের ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
