জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তীব্র তাপদাহ ও সুপেয় পানির সংকট – DesheBideshe

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তীব্র তাপদাহ ও সুপেয় পানির সংকট – DesheBideshe


জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তীব্র তাপদাহ ও সুপেয় পানির সংকট – DesheBideshe

টোকিও, ৩০ জুলাই – জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এখন এক নতুন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধ্বংসস্তূপের মাঝে তীব্র তাপদাহ এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট জনজীবনকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।

বিশেষ করে কুমামোতো প্রদেশের ইয়াৎসুশিরো শহরে সুপেয় পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭ জনের প্রাণহানির সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে যে, নিহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নিহতদের বড় একটি অংশ নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা এবং ইয়ন শপিং মলে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ভূমিকম্পে আহত অনেকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত মঙ্গলবারের এই শক্তিশালী ভূকম্পনে অসংখ্য বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং প্রধান সড়কগুলোতে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইয়াৎসুশিরো শহরের প্রায় ৫৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং প্রচণ্ড আর্দ্রতার মধ্যে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাস্তার ম্যানহোলের ওপর অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয়রা।

বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে জাপানের সামরিক বাহিনী বা সেলফ ডিফেন্স ফোর্স। তারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনের কাজ চালাচ্ছে। সামরিক ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

বর্তমানে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ লিটার করে পানি বিতরণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে যে, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পানি সরবরাহ লাইনগুলো সচল হতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে জাপানের বৃহৎ শিল্পখাতেও। কুমামোতো অঞ্চলটি জাপানের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল হাব হিসেবে পরিচিত। দুর্যোগের কারণে টয়োটা, হোন্ডা, নিসান এবং সোনির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। জাপানের ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা।

এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top