শুধু ওষুধ দিয়ে একটি জাতিকে রোগমুক্ত রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে রোগ প্রতিরোধে। এজন্য জন্মের পর থেকেই প্রতিরোধমূলক ও উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখ, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসা শুধু ওষুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, সঠিক পরামর্শ ও মানসিক সাহস জোগানোও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দেশে কিডনি ও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অনেক বেশি। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। কোনো নাগরিক যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। খুব শিগগিরই দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অপুষ্টি এবং মাতৃদুগ্ধ পান না করানোর প্রবণতা এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। নবজাতকদের শালদুধ ও পরবর্তী সময়ে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে পারলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

