রাশিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থাৎ আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ভলকার তুর্ক।
আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৪টি দেশ তার পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০টি, আর ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই অনুমোদনের ফলে আগামী ১১ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন তুর্ক। এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ব্যক্তি হতে যাচ্ছেন।
ভোটের আগে রাশিয়া তুর্কের মেয়াদ মাত্র দুই মাস বাড়ানোর একটি পাল্টা প্রস্তাব দেয়। তবে সাধারণ পরিষদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণ চার বছরের মেয়াদ অনুমোদন করে। তুর্কের পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দায়িত্ব পালনকালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিলেন ভলকার তুর্ক।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতার অভাবকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার এসব অবস্থানের কারণে ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করে। পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তুর্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও সংঘাত মোকাবেলায় মানবাধিকারই সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি। বিশ্বের সব মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে এই পুনর্নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি জেফ বার্তোস ভোট প্রক্রিয়াকে তড়িঘড়ি ও ত্রুটিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, তুর্কের নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তুর্কের পুনর্নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষায় তার কার্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

