জঙ্গল সলিমপুরে ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ শুরু | চ্যানেল আই অনলাইন

জঙ্গল সলিমপুরে ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ শুরু | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ চারটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ২৪ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আলম মাসুদ।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক এবং আলীনগর থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া একটি অভ্যন্তরীণ সড়কও তৈরি করা হবে। সড়কের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কালভার্ট, সেতু ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নির্মাণ করা হবে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আলম মাসুদ বলেন, প্রথম ধাপে আলীনগর থেকে একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ১৮ ফুট। পাহাড়ধস প্রতিরোধে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। সড়কগুলো নির্মাণ শেষ হলে তিন দিক থেকেই সহজে যাতায়াত করা যাবে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এর আগে গত ২ এপ্রিল জঙ্গল সলিমপুর এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পাকা করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের মতে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন এবং নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করতে সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশক থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও তিন সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই এলাকাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Scroll to Top