
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগিয়ে যেতে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সম্প্রতি গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ওয়ালটন ফ্রিজ-টেলিভিশনের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন হাই-কনফিগারেশনের ল্যাপটপ ও ট্যাব তৈরি করছে। খুচরা যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ফিনিশড পণ্য উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ালটনের পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব যেমন উন্নত, তেমনি দামও সাশ্রয়ী।
তিনি বলেন, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ওয়ালটন প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।
ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শনকালে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা সরেজমিনে দেখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
পরিদর্শনের শুরুতে ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখেন তিনি। পরে ওয়ালটনের প্রযুক্তিপণ্যে সাজানো ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন।
এরপর অত্যাধুনিক এসএমটি (সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি) মেশিনে পিসিবি বা মাদারবোর্ড উৎপাদনসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপিত দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টও পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় ওয়ালটনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন মন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ওয়ালটন সম্পর্কে তার আগে একটি মিশ্র ধারণা ছিল। তিনি মনে করতেন, প্রতিষ্ঠানটি হয়তো অ্যাসেম্বলিং বা রি-অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ করে। তবে কারখানা পরিদর্শনের পর সেই ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেছে।
তিনি বলেন, ওয়ালটনের কার্যক্রম দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন।
ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমের প্রশংসা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি রিনিউএবল এনার্জি ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।
দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি ও তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগিয়ে যেতে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশীয় শিল্পবান্ধব। দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দেশীয় শিল্পায়নের স্বার্থে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও নীতিসহায়তা দিয়েছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালক এস এম রেজাউল আলম এবং এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…