
ছবি: সংগৃহীত
দৌড়াতে হবে না। সাঁতার কাটতে হবে না। কোনো কঠিন শারীরিক কসরতও করতে হবে না। প্রতিযোগিতায় জিততে বরং আপনাকে করতে হবে এমন একটি কাজ, যা প্রতিদিনই আমরা করি—ঘুমাতে হবে।
তবে সাধারণ ঘুম নয়। টোকিওতে হতে যাচ্ছে এমন এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা, যেখানে বিজয়ী নির্ধারিত হবে কে সবচেয়ে ভালো ঘুমাতে পারেন, তার ভিত্তিতে। আর পুরস্কার হিসেবে থাকছে ২২ লাখ ২০ হাজার জাপানি ইয়েন।
প্রতিযোগিতাটির নাম ‘মাত্ত্রাসে বি কোওলা’। আগামী ৫ অক্টোবর জাপানের টোকিওর মিনামি-আওয়ামিতে বসবে এই অভিনব প্রতিযোগিতার আসর। প্রতিযোগীদের প্রায় ৯০ মিনিট ঘুমের মধ্যে কার ঘুমের মান সবচেয়ে ভালো, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য।
ঘুমালেই হবে না, ঘুমাতে হবে ভালো
শুনতে সহজ মনে হলেও প্রতিযোগিতাটি মোটেই শুধু বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করার বিষয় নয়। এখানে কে কতক্ষণ ঘুমালেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে ঘুমের গুণগত মান।
প্রতিযোগীদের ঘুমের সময় শরীরে বিশেষ ঘুম পর্যবেক্ষণকারী ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে, ঘুমিয়ে পড়তে একজন প্রতিযোগীর কত সময় লাগছে, ঘুম কতটা গভীর হচ্ছে, ঘুমের সামগ্রিক মান কেমন এবং পুরো সময় ঘুম কতটা স্থিতিশীল থাকছে।
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিযোগীদের জন্য তৈরি করা হবে একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’। শেষ পর্যন্ত যার স্কোর সবচেয়ে বেশি হবে, তিনিই হবেন এই অদ্ভুতুড়ে প্রতিযোগিতার বিজয়ী।
অর্থাৎ এখানে সবচেয়ে বেশি সময় ঘুমানোই সাফল্যের মাপকাঠি নয়। বরং অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া, গভীর ও স্থিতিশীল ঘুম ধরে রাখা এবং ঘুমের সামগ্রিক মানই হবে আসল পরীক্ষা।
ঘুমের মধ্যেও আসবে বাধা
প্রতিযোগিতার আরেকটি বিষয় আরও চমকপ্রদ। প্রতিযোগীরা পুরো সময় নির্বিঘ্নে ঘুমানোর সুযোগ নাও পেতে পারেন।
ঘুমের মাঝখানে পরিকল্পিতভাবে কিছু অপ্রত্যাশিত বাধা তৈরি করা হবে। উদ্দেশ্য হলো, বাইরের বিঘ্নের মধ্যেও কে কতটা স্থিরভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, তা পরীক্ষা করা।
এতে প্রতিযোগিতাটি নিছক ‘কে বেশি ঘুমাতে পারেন’ ধরনের আয়োজন থাকছে না। বরং ঘুমের গভীরতা, স্থিতিশীলতা এবং বিঘ্নের মধ্যেও ঘুম ধরে রাখার সক্ষমতাও পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠছে।
পুরস্কার ২২ লাখ ২০ হাজার ইয়েন
সবচেয়ে ভালো ঘুমের জন্য পুরস্কারটিও কম চমকপ্রদ নয়।
সর্বোচ্চ ‘স্লিপ স্কোর’ পাওয়া প্রতিযোগী পাবেন ২২ লাখ ২০ হাজার জাপানি ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী কয়েক দশক লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
অর্থাৎ এমন একটি কাজ, যার জন্য মানুষ সাধারণত অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার বিছানায় ফিরে যায়, সেই ঘুমই এখানে এনে দিতে পারে বড় অঙ্কের পুরস্কার।
ঘুম যখন প্রতিযোগিতার বিষয়
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কোনো নিবন্ধন ফি দিতে হবে না। তবে আয়োজকদের নির্ধারিত আসনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে লটারির মাধ্যমে প্রতিযোগী নির্বাচন করা হবে।
আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর। এরপর নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে ৫ অক্টোবর টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে মূল আয়োজন।
ঘুমকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন প্রথম দেখায় নিছক বিনোদন মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন একটি বার্তাও।
আধুনিক জীবনে কাজের চাপ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা, অনিয়মিত জীবনযাপন ও মানসিক চাপের কারণে অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই প্রতিযোগিতা সেই বিষয়টিকেই কিছুটা ভিন্নভাবে সামনে আনছে। এখানে ‘বেশি ঘুম’ নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ভালো ঘুম’।
হয়তো এ কারণেই প্রতিযোগিতাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দাঁড়ায় অন্যভাবে—ঘুমিয়ে কে জিতবেন, সেটি নয়; ঘুমকে কতটা ভালোভাবে নেওয়া যায়, সেটিই কি আসল প্রতিযোগিতা?
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…