গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের নিচে থেমে গেল একটি পরিবারের পথচলা

গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের নিচে থেমে গেল একটি পরিবারের পথচলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: সহকর্মীর শোকের দিনে একটু পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই ছিল দুপুরের খাবারের আয়োজন। নিজের হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে সঙ্গে করে বেরিয়েছিলেন রাকিব হাসান। গন্তব্য ছিল সহকর্মীর বাসা। কিন্তু সেই দাওয়াত আর পৌঁছায়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ড ভ্যান মুহূর্তেই বদলে দেয় সবকিছু। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্ত্রী বিথী। গুরুতর আহত রাকিবকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের একমাত্র শিশুসন্তান গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথি মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের নিচে থেমে গেল একটি পরিবারের পথচলা

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ২ নম্বর সিএন্ডবি বাজার এলাকায়, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম কলেজগামী সড়কের মুখে ময়মনসিংহগামী লেনে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব হাসান (৪২) পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীপুরের ডেনিম্যাক্স গার্মেন্টসে এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী বিথীর (২৭) বাড়িও একই এলাকায়। এতো শিশু ওই দম্পতির ৯ মাস বয়সী একমাত্র সন্তান নূর।

কারখানার এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগের কর্মকর্তা হাজ্জাজ জানান, কয়েক দিন আগে সহকর্মী সুলতানের মা মারা যাওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে শনিবার দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাকিব। অফিস শেষে বাসায় ফিরে তিনি খাবার প্রস্তুত করেন। পরে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে মহাসড়কের পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে অবস্থিত সহকর্মীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বিথীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রাকিবকে দ্রুত মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শিশু হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রথিত তারও মৃত্যু হয়।

মাওনা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল বর্মন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি পালিয়ে গেছে। যানটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Scroll to Top